
গাজীপুর, ২৬ মে – গাজীপুরের সব শিল্প কারখানা দ্বিতীয় ধাপে ছুটি ঘোষণা করায় ঢাকা টাঙ্গাইল ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শিল্পনগরীর বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলো ছুটি হওয়ায় লাখ লাখ শ্রমিক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। দুপুরের পর থেকে এই দুই মহাসড়কে যানজট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈরী আবহাওয়া, যা যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার কোনাবড়ী, চৌরাস্তা, টঙ্গী, রাজেন্দ্রপুর, কালিয়াকৈর ও মাওনা এলাকার কারখানাগুলো ছুটি হওয়ার পর থেকেই কর্মজীবী মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথ ধরেছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুপুরের পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে।
এর আগে সোমবার গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় গত রাত থেকেই উত্তরবঙ্গগামী সড়কে যাত্রীদের তীব্র ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে।
একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের ভোগড়া, টঙ্গী বোর্ডবাজার ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, সড়কের যানজট ও বৃষ্টি বিঘ্নিত আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে পরিবহন চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে চড়ে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন।
নওগাঁগামী যাত্রী মোশারফ মিয়া জানান, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার কারণে তিনি বিপাকে পড়েছেন। ট্রাকে ভাড়া কিছুটা কম হলেও যাতায়াত কষ্টসাধ্য।
এদিকে বাসের চালকরা বলছেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং উত্তরবঙ্গের সড়কে সম্ভাব্য যানজটের কারণে যাতায়াতে সময় বেশি লাগছে।
গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলম জানান, আজ জেলার বাকি ৬০ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় সড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শুধু গাজীপুর নয়, ঢাকা ও সাভারের ঘরমুখী মানুষও এই পথ ব্যবহার করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানজট নিরসনে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এনএন/ ২৬ মে ২০২৬






