কোয়ান্টাম জগৎ: মহাবিশ্ব কীসের তৈরি, কণা নাকি তরঙ্গ

কোয়ান্টাম জগৎ:  মহাবিশ্ব কীসের তৈরি, কণা নাকি তরঙ্গ

আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সেই পরীক্ষিত কৌশলই কাজে লাগালেন। ১৮৮৭ সালে জার্মান পদার্থবিদ হাইনরিখ হার্টজ প্রথম যে পরীক্ষাটি করেছিলেন, তার ফলাফল ব্যাখ্যা করতেই আইনস্টাইন এই সুপরীক্ষিত কৌশল প্রয়োগ করেন। আলোক-তড়িৎ ক্রিয়ায় দেখা যায়, কোনো ধাতুর ওপর আলো ফেললে ধাতুটি ইলেকট্রন নির্গত করে। কিন্তু আলো যদি চিরায়ত বিদ্যুৎচুম্বকত্বের ধারণা অনুযায়ী কোনো অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ হতো, তাহলে ঘটনাটি ঘটার কথা অন্যভাবে। সে ক্ষেত্রে আলো ধাতুর ইলেকট্রনগুলোর কাছে ধীরে ধীরে শক্তি জোগাত। কিছু সময় পর ইলেকট্রনগুলো পর্যাপ্ত শক্তি অর্জন করলে ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসতে পারত। এমনকি আলোর তরঙ্গের শক্তি যদি খুব কমও হতো (যা এর কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক), তবুও দীর্ঘদিন বা যথেষ্ট সময় ধরে আলো ফেললে সেখান থেকে ইলেকট্রন নির্গত হওয়া উচিত ছিল।

চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আরও একটি বিষয় প্রত্যাশিত ছিল। সেটা হলো, আলোর তীব্রতা বাড়ালে, অর্থাৎ প্রতি একক ক্ষেত্রফলে আলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা শক্তি বাড়ালে, নির্গত ইলেকট্রনগুলোর গতিশক্তিও বাড়ার কথা। ফলে বেশি তীব্র আলো ফেললে ইলেকট্রনগুলো ধাতুর পৃষ্ঠ থেকে আরও বেশি গতিতে বেরিয়ে আসবে—এটাই ছিল চিরায়ত ধারণা।

কিন্তু আলোক-তড়িৎ ক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা যা দেখলেন, তা ছিল একেবারেই ভিন্ন। আলো থেকে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়ার জন্য ইলেকট্রনগুলোকে অপেক্ষা করতে হয়নি। আলোতে যথেষ্ট শক্তি বা কম্পাঙ্ক থাকলেই ইলেকট্রন সঙ্গে সঙ্গে ধাতু থেকে বেরিয়ে আসত।

Scroll to Top