আটলান্টিকের ঢেউ থেকে লিসবনের পাথুরে গলি, পোর্তোর আঙুরক্ষেত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পর্তুগিজ সম্প্রদায়—সব জায়গাতেই আজ উৎসবের আমেজ।
বুধবার (১০ জুন) পালিত হচ্ছে পর্তুগাল ডে, যা পর্তুগিজ ভাষায় পরিচিত ‘দিয়া দে পর্তুগাল, ডি ক্যামোয়েস ই দাস কমিনিডেস পর্তুগিসাস’ নামে।
এই দিনটি শুধু একটি জাতীয় ছুটি নয়, বরং পর্তুগালের ইতিহাস, এটি একটি জাতির অহংকার, ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পর্তুগিজ পরিচয়ের এক গভীর প্রতীক।
পর্তুগিজদের জাতীয় দিবসটি ইউরোপের অনেক দেশের মতো সামরিক বিজয় বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার দিনকে কেন্দ্র করে নয়। বরং এটি উৎসর্গ করা হয়েছে তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি লুইস ভাজ দে কামোয়েন্স-এর স্মৃতির প্রতি, যিনি ১৫৮০ সালের ১০ জুন মৃত্যুবরণ করেন। তার অমর মহাকাব্য ‘ওস লুসিয়াদাস’ পর্তুগিজদের সমুদ্রযাত্রা, অভিযাত্রা এবং বীরত্বের ইতিহাসকে বিশ্বসাহিত্যে স্থায়ীভাবে জায়গা করে দিয়েছে। এই সাহিত্যকর্মই পর্তুগিজ জাতীয় চেতনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৫৮০ সালে কামোয়েন্সের মৃত্যুর পরপরই পর্তুগাল স্পেনের শাসনের অধীনে চলে যায় এবং স্বাধীনতা হারায়। তবে পর্তুগিজ জনগণের সাংস্কৃতিক চেতনা টিকে ছিল মূলত কামোয়েন্সের কবিতা ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে, যা পরবর্তী সময়ে তাদের পুনরায় স্বাধীনতা অর্জনের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। এই কারণে ১০ জুন পর্তুগালের কাছে একই সঙ্গে কবি, সাহিত্য এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
পর্তুগাল ডে-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বৈশ্বিক বিস্তার। শুধু মূল ভূখণ্ডে নয়, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, আফ্রিকা ও এশিয়ার ম্যাকাওসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ পর্তুগিজ সম্প্রদায় এই দিনটি উদযাপন করছে। লিসবনে চলছে আনুষ্ঠানিক সামরিক কুচকাওয়াজ, আর প্রবাসী পর্তুগিজরা নিজেদের সংস্কৃতি, সংগীত ও খাবারের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করছেন। ঐতিহ্যবাহী ফাদো সঙ্গীত এবং পাস্তেল দে নাতার সুবাসে ভরে উঠছে বিভিন্ন শহর।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্রসেলো লুইস বলেছেন, এই দিনটি মনে করিয়ে দেয় একটি জাতির আসল শক্তি তার সীমানায় নয়, তার সংস্কৃতি ও ভাষায়। যুগে যুগে পর্তুগিজরা সাগর পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে আবিষ্কার করেছে, আর আজ তারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে তাদের সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের বার্তা।
ইতিহাসের গৌরব আর ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে বুকে নিয়ে পর্তুগাল ডে উপলক্ষে বিশ্বের সকল পর্তুগিজ সম্প্রদায়কে জানানো হচ্ছে শুভেচ্ছা।




