
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ একমাত্র বিএনপি সরকারের কাছেই নিরাপদ। অন্য কোনো দলের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। কারণ, বিএনপি সব সময় জনগণের সরকার হিসেবে কাজ করে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা জিয়া পরিবারের শত্রু এবং ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সার্বভৌম সরকার দেখতে চান না, তাঁরা এখনো নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘গত ১৭ বছর যাঁরা জুলুম, নির্যাতন ও চাঁদাবাজি চালিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। কিন্তু তাঁদের দোসররা এখনো সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়নি। বর্তমান সরকার যাতে সফল হতে না পারে, সেই চক্রান্ত এখনো চলছে। এমনকি একাত্তরের পরাজিত শক্তিগুলোও আজকাল নতুন করে ফণা তোলার চেষ্টা করছে। তবে আমরা গণতন্ত্রের শক্তিতে বিশ্বাসী।’
শহীদ জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সব বাধা ডিঙিয়ে দেশকে এক স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। কৃষক, শ্রমিক, যুবসমাজ ও নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রতিটি স্বপ্নের বীজ তিনিই বপন করে গেছেন। দেশের পানির সংকট দূর করতে খাল খনন এবং রেমিট্যান্স খাতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। আর বর্তমানে তাঁরই সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিগত হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে শহীদ জিয়ার আদর্শ বুকে নিয়ে দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে হবে। দলীয় ঐক্য বজায় রেখে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আগামী একশ বছর গর্বের সঙ্গে দলের ঝান্ডা ওড়াতে পারে।’
আলোচনা সভা শেষে শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।




