ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্ক, তদন্তে নামছে ফিফা | চ্যানেল আই অনলাইন

ইংল্যান্ড ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্ক, তদন্তে নামছে ফিফা | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠেছে আর্জেন্টিনা। জয়ের পর উদযাপনের রেশ মাঠেই রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কে। দুদেশের রাজনৈতিক বৈরিতার অন্যতম কারণ ফকল্যান্ড দিপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিল আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়রা। রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। সেমিফাইনালের পর মাঠের ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকার।

বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ের পর মাঠে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। মাঠের ভেতর উল্লাসের একপর্যায়ে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের ছুড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় স্পষ্টাক্ষরে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’।

যার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’ ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতিই ইঙ্গিত করে সামনে আনা হয়েছিল। ঐতিহাসিক ক্ষত নিয়ে মাঠের ভেতরে এমন আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্য। দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা ফিফাকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করার অনুরোধ জানানোর পর অবশেষে মুখ খুলেছে ফিফা।

ফিফার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি বর্তমানে ম্যাচের প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করছে এবং ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করছে।’

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব বহুদিনের। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপের দখল নিলে পাল্টা আঘাত হানে ইংল্যান্ড। ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে দ্বীপের দখল ধরে রাখে ব্রিটিশরা। তবে ফকল্যান্ড হারানোর দুঃখ আর্জেন্টাইনদের কাছে এখনো দগদগে এক স্মৃতি। তাদের রাষ্ট্রীয় ও আবেগগত দাবি-মালভিনাস (ফকল্যান্ড) এখনো তাদেরই ভূখণ্ড।

ফুটবলের মূল আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী, ‘মাঠে খেলোয়াড়েরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি প্রদর্শন করতে পারবেন না।’ এই কঠোর নিয়মের কারণেই ম্যাচের আগেই মাঠের ভেতর ফকল্যান্ডের পতাকা বা বিতর্কিত যেকোনো কিছু নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। যদিও কড়া নিরাপত্তার ফাঁক গলে কোনো এক সমর্থক ব্যানারটি ঠিকই গ্যালারি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেষে তা ফুটবলারদের হাতে পৌঁছায়।

নিয়ম অনুযায়ী, ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক কোনো স্লোগান বা বক্তব্য প্রদর্শন করলে ফিফা সাধারণত আর্থিক জরিমানা করে থাকে। অপরাধের মাত্রা ভেদে এই জরিমানার পরিমাণ হতে পারে ৫ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত। তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে যদি নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও উসকানি প্রমাণিত হয়, তবে তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিষিদ্ধও করা হতে পারে।

Scroll to Top