বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, মেলেনি স্বীকৃতি | চ্যানেল আই অনলাইন

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, মেলেনি স্বীকৃতি | চ্যানেল আই অনলাইন

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, এমন দাবি করে একটি বিবৃতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এই বিবৃতির সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’ নামে প্রচারিত ভাইরাল বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তারা বেলুচিস্তানের ৮৫ শতাংশের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাশাপাশি একটি জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, নতুন মুদ্রা এবং স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, নতুন প্রশাসন বেলুচিস্তানের খনিজ সম্পদ, গ্যাসক্ষেত্র ও কয়লাখনির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটির সোনা ও তামার খনি, ১৫০টিরও বেশি গ্যাসক্ষেত্র এবং ১ হাজার ২০০টির বেশি সচল কয়লাখনি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা পদত্যাগ করে বেলুচদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে বেলুচ নেতা মীর ইয়ার বেলুচও দাবি করেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণ এখন প্রতিরোধ আন্দোলনে আগের তুলনায় বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে। তার ভাষ্য, আগে যেখানে মূলত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় ছিল, সেখানে এখন সাধারণ মানুষও আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

স্বঘোষিত ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা উপকূল পাকিস্তানের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, বেলুচিস্তানকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে। তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পাশাপাশি স্বাধীন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রও বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা বা ওই বিবৃতিতে করা বিভিন্ন দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান। এসব ঘটনার মধ্যেই নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’র দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলেও তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি।

Scroll to Top