
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিনে ছড়িয়ে পড়েছে চ্যাটজিপিটি-র ‘আশির দশকের ছবি’ ট্রেন্ড। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি চ্যাটজিপিটি-তে আপলোড করে সেটিকে ১৯৮০-এর দশকের স্টাইলে রূপান্তর করছেন।
বড় চুল, সেই সময়ের পোশাক, উষ্ণ স্টুডিও আলো এবং পুরোনো ফিল্মের দানাদার আবহে তৈরি এসব ছবি দেখতে অনেকটাই বাস্তবের মতো। তবে বিনোদনের এই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
ছবির সঙ্গে কী তথ্য যাচ্ছে?
একটি ছবিতে শুধু মুখই থাকে না। ছবির ফাইলের সঙ্গে তোলা তারিখ, কোন ডিভাইসে ছবি তোলা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অবস্থানের তথ্যের মতো মেটাডেটাও থাকতে পারে। ছবির পেছনের দৃশ্য থেকেও বাড়ির নম্বর, রাস্তার নাম, গাড়ির নম্বরপ্লেট, কর্মস্থল কিংবা অন্য ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ হয়ে যেতে পারে।
চ্যাটজিপিটি-তে ছবি আপলোড করলে সেটি ব্যবহারকারীর কথোপকথনের অংশ হিসেবে সেবাটিতে প্রক্রিয়াজাত হয়। ভোক্তা পর্যায়ের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টে ব্যবহারকারীর সেটিংস অনুযায়ী কনটেন্ট মডেল উন্নয়নে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে আপলোড করা প্রতিটি ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় এমন নয়। সেবার ধরন ও ব্যবহারকারীর ডেটা সেটিংসের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?
যারা নিজেদের সাধারণ ছবি আপলোড করছেন, তাদের জন্য এটি সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে না। তবে ছবি আপলোড করার অর্থ হলো ডিভাইসে একান্তভাবে সংরক্ষিত ছবিটির একটি কপি প্ল্যাটফর্মে দেওয়া।
গোপনীয়তা বাড়াতে চ্যাটজিপিটির Settings > Data Controls থেকে ‘Improve the model for everyone’ অপশনটি বন্ধ করা যায়। আরেকটি বিকল্প হলো ‘Temporary Chat’ ব্যবহার করা।
ওপেন এআই (OpenAI)-এর তথ্য অনুযায়ী, Temporary Chat মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয় না, চ্যাট হিস্ট্রিতেও দেখা যায় না এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ৩০ দিনের মধ্যে সিস্টেম থেকে মুছে ফেলা হয়।
ব্যবহারকারীদের পরিচয়পত্র, ব্যক্তিগত নথি, অত্যন্ত সংবেদনশীল বা অন্তরঙ্গ ছবি আপলোড করা এড়িয়ে চলা উচিত। অন্য কারও, বিশেষ করে শিশুদের ছবি অনুমতি ছাড়া আপলোড না করাই ভালো।
ছবি দেওয়ার আগে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কেটে দেওয়া, বাড়ির নম্বর বা গাড়ির নম্বরপ্লেট ঝাপসা করে দেওয়া এবং গোপনীয়তা সেটিংস যাচাই করাও নিরাপদ অভ্যাস।
পরিবেশের ওপরও প্রভাব
এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে গোপনীয়তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও ‘হাগিং ফেস’ প্ল্যাটফর্মটি-এর গবেষণা অনুযায়ী, একটি এআই ছবি তৈরিতে সিস্টেম ও প্রক্রিয়াভেদে আনুমানিক ০.০১ থেকে ০.২৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ লাগতে পারে।
একটি ছবির ক্ষেত্রে এই পরিমাণ কম মনে হলেও লাখো মানুষ একই ট্রেন্ডে অংশ নিলে এবং প্রত্যেকে একাধিক ছবি তৈরি করলে মোট শক্তি ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় ছবিটিই তৈরি করা এবং একই ধরনের অসংখ্য সংস্করণ বারবার না বানানোই হতে পারে তুলনামূলক দায়িত্বশীল ব্যবহার।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…