আবারও দেশজুড়ে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা জারি, নেপথ্যে ৪ শঙ্কা | চ্যানেল আই অনলাইন

আবারও দেশজুড়ে পুলিশের বাড়তি সতর্কতা জারি, নেপথ্যে ৪ শঙ্কা | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশজুড়ে আবারও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। ১ আগস্ট প্রথম দফা সতর্কতার পর শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় দফায় দেওয়া এই নির্দেশনায় রাতের টহল, মোবাইল ডিউটি ও চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, বোমা হামলার আশঙ্কার তথ্য পাওয়ার পরই বেতার বার্তার মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সতর্কতার পর ঢাকাসহ সারাদেশে টহল ও তল্লাশি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, আগস্টজুড়ে একাধিক ঝুঁকি সামনে রেখেই এবারের সতর্কতা।

চার শঙ্কায় বাড়তি নিরাপত্তা

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, নিরাপত্তা সতর্কতার পেছনে প্রধানত চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, ১৫ আগস্টকে ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের আশঙ্কা রয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে যানবাহন বা স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

দ্বিতীয়ত, আগস্ট মাসকে ঘিরে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নতুন করে তৎপর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা এ আশঙ্কার অন্যতম কারণ।

তৃতীয়ত, আনসার আল ইসলামসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। চতুর্থত, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাতের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষ অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকায় ৬৪, সারাদেশে ১,৩৭৫ চেকপোস্ট

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় স্বাভাবিক সময়ে থাকা ১১টি স্থায়ী চেকপোস্টের সঙ্গে নতুন করে ৫৩টি অস্থায়ী চেকপোস্ট যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে মোট চেকপোস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪টি। সারাদেশে আগে থাকা ৩৩০টি অস্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি আরও ১ হাজার ৪৫টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের প্রায় ৮০০ কেপিআই বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন, ইসিবি চত্বর, বিজয় সরণি, গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে টহল ও তল্লাশি। উত্তরার মেট্রোরেল স্টেশন ঘিরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

৮ দিনে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৩,৫২২

নিরাপত্তা জোরদারের সঙ্গে বেড়েছে গ্রেপ্তার অভিযানও। ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীতে ৩ হাজার ৫২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ আগস্ট ৪৩১, ২ আগস্ট ৪৩১, ৩ আগস্ট ৪১৯, ৪ আগস্ট ৪৫৮, ৫ আগস্ট ৪১৮, ৬ আগস্ট ৪৬৬, ৭ আগস্ট ৪১৪ এবং ৮ আগস্ট ৪৮৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরই মধ্যে বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম এলাকায় মশাল মিছিল থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাতজন এবং গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় বৈঠক থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। মিরপুর ও উত্তরাতেও রাজনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আগস্টজুড়ে নজরদারি

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, জঙ্গি তৎপরতা, সংঘাত ও নাশকতার সম্ভাবনাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর অঞ্চলে ঝটিকা মিছিলের তথ্য পাওয়ায় সেখানে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার এই নিরাপত্তা সতর্কতা নিছক নিয়মিত পুলিশি প্রস্তুতি নয় আগস্টজুড়ে একাধিক সম্ভাব্য ঝুঁকিকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পদক্ষেপ। তবে এই বাড়তি নিরাপত্তার নেপথ্যে থাকা ঝুঁকিগুলোর কোনটি সবচেয়ে বাস্তব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতা কিংবা রাজনৈতিক সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের নাশকতার আশঙ্কা কোন ঝুঁকির মাত্রা কতটা, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিপুল নিরাপত্তা মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তি ও ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

Scroll to Top