
জেরুজালেম, ৬ জুন – ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় এবার এক বিয়ের আসরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আনন্দের উৎসব মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিয়েছে লাশের মিছিলে। গাজা সিটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো এই বর্বরোচিত হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই হৃদয়বিদারক খবর নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার অভিজ্ঞ অন-গ্রাউন্ড রিপোর্টার হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, গাজা সিটির একটি কলোনিতে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য টাঙানো একটি বড় সামিয়ানা বা তাঁবু লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে পরপর দুটি প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি তীব্র বিস্ফোরণে বিয়ের আসরটি ধূলিসাৎ করে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন মারা যান এবং রক্তে ভেসে যায় চারপাশ। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিয়ের আমন্ত্রণে আসা অতিথিদের হাসিকান্নায় মুখরিত ছিল পুরো তাঁবুটি। কনে ও বরের স্বজনরা যখন উৎসবে মেতে ছিলেন, ঠিক তার কয়েক মিনিট পরেই উড়ে আসে ইসরায়েলি ড্রোন। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ-উৎসবের শোরগোল রূপ নেয় রক্তাক্ত ও বিভীষিকাময় আর্তনাদে। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে উৎসবের খাবার আর মানুষের ছিন্নভিন্ন মরদেহ।
গাজার বিখ্যাত আল-শিফা হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, হামলায় এক ডজনেরও বেশি ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। স্প্লিন্টারের আঘাতে শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া আহতদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অ্যাম্বুলেন্স ও স্থানীয়দের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে রক্তাক্তদের দ্রুত আল-শিফা হাসপাতাল এবং কাছাকাছি একটি ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর ছিটানো এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এর বিধ্বংসী শার্পনেল বা লোহার টুকরো পাশের একটি জাতিসংঘের স্কুলেও গিয়ে আঘাত হানে। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই স্কুলটিতে ঘরবাড়ি হারানো শত শত বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। ফলে সেখানেও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ নতুন করে আহত হয়েছেন।
সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে যে চরম আতঙ্ক, ট্রমা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিনিয়ত শ্বাস নিচ্ছেন, এই হামলা তারই আরও একটি নির্মম উদাহরণ। দিনের আলোয় প্রকাশ্য একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে মানুষকে হত্যা করা হবে—এমন নৃশংসতা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।”
আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধনীতিকে তোয়াক্কা না করে গাজায় একের পর এক সামাজিক অনুষ্ঠান, হাসপাতাল ও আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলা বিশ্ব বিবেককে নতুন করে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
এনএন/ ৬ জুন ২০২৬





