আজ ২৭ জুন আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবস। দৃষ্টি ও শ্রবণ— এই দুই ইন্দ্রিয়েই গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমাজে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই দিনটি পালন করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৭ জুনকে আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিনটি পালন করা হয় বিশ্বখ্যাত লেখক ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের জন্মদিন উপলক্ষে। দৃষ্টি ও শ্রবণ— দুই ধরনের প্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছেন।
জাতিসংঘ বলছে, বধির-অন্ধত্ব শুধু দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয় নয়। এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিবন্ধকতা। কারণ এক ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা অন্য ইন্দ্রিয় দিয়ে পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষা, যোগাযোগ, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা আলাদা ধরনের সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন।
বাংলাদেশেও বধির-অন্ধ ব্যক্তিরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এখনো তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার নেই। ফলে কতজন মানুষ এই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তার সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিসংখ্যানের অভাবের কারণে নীতিনির্ধারণ, সরকারি সেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমেও তারা অনেক সময় অবহেলিত থেকে যান।
দেশে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দোভাষী, পথপ্রদর্শক এবং যোগাযোগ সহায়তাকারীর সংখ্যাও খুবই সীমিত। ফলে অনেক বধির-অন্ধ ব্যক্তি শিক্ষা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কিংবা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণে সমস্যার মুখে পড়েন। অনেক পরিবারও প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সচেতনতার অভাবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হিমশিম খায়।
প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, বধির-অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং প্রশিক্ষিত সহায়তাকারী নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালায় এই প্রতিবন্ধকতাকে স্বতন্ত্রভাবে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ
আন্তর্জাতিক বধির-অন্ধ দিবসের মূল বার্তা হলো— কাউকে অদৃশ্য করে রাখা নয়, বরং সমান অধিকার, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশেও বধির-অন্ধ ব্যক্তিদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।



