খুলনার কয়রা উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও অতিরিক্ত লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বাধা দিতে গিয়ে আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এক যুবক হঠাৎ জোনাল কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে উপমহাব্যবস্থাপক আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রবিউল সরদার (২৭) নামে ওই যুবককে আটক করে।
আটক রবিউল সরদার কয়রা সদর ইউনিয়নের পায়রাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারের দাবি, তিনি অসুস্থ এবং মানসিক ভারসাম্যহীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়রা উপজেলায় দিনের পাশাপাশি রাতের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হচ্ছে। বিদ্যুৎবিভ্রাটের ক্ষোভ বা অন্য কোনো কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান খান বলেন, অনেকের ধারণা খুলনা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ আনা সম্ভব। কিন্তু দূরত্ব বেশি হওয়ায় সে ক্ষেত্রে ভোল্টেজ কমে যাবে এবং সরবরাহ আরও অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের দুর্ভোগ আমরা বুঝি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে সরকারি সম্পদে হামলা বা ভাঙচুর কোনো সমস্যার সমাধান নয়।
ঘটনার পর কার্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।




