স্মার্ট সিগন্যাল পাচ্ছে রাজধানীর ১২০ মোড় | চ্যানেল আই অনলাইন

স্মার্ট সিগন্যাল পাচ্ছে রাজধানীর ১২০ মোড় | চ্যানেল আই অনলাইন

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ১২০টি ট্রাফিক মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে ৭৬টি মোড়ে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)-এর সমন্বয়ে প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা কোনো বড় বরাদ্দ বা বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন হবে না। পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উদ্ভাবিত দেশীয় প্রযুক্তিতে এসব সিগন্যাল তৈরি করা হয়েছিল।

এ ছাড়া চলতি বছরের ৭ মে থেকে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে ডিএমপি। এসব ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। ফলে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, লেন শৃঙ্খলা না মানা কিংবা অন্যান্য অনিয়ম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় এবং পরবর্তীতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-র অর্থায়নে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা রাজধানীর যানজট কমানো, সড়ক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নতুন ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তাদের মতে, প্রযুক্তি স্থাপনের চেয়ে সেটিকে দীর্ঘমেয়াদে সচল ও কার্যকর রাখা গেলে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

Scroll to Top