৯৪ দিন ধরে অচল হরমুজ প্রণালি: বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌ-বাণিজ্যে চরম অনিশ্চয়তা – DesheBideshe

৯৪ দিন ধরে অচল হরমুজ প্রণালি: বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌ-বাণিজ্যে চরম অনিশ্চয়তা – DesheBideshe


৯৪ দিন ধরে অচল হরমুজ প্রণালি: বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌ-বাণিজ্যে চরম অনিশ্চয়তা – DesheBideshe

তেহরান, ২ জুন – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক নৌপথটি টানা ৯৪ দিন ধরে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।

অ্যাথেন্সে আয়োজিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক শিপিং প্রদর্শনীতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নৌ বাণিজ্য নির্বাহীরা জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি এবং নিরাপদ যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ পাঠাতে রাজি নন।

এই দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং সার সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার আশায় তেলের দাম কিছুটা কমলেও সপ্তাহান্তে ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়া এবং ইরানের শান্তি আলোচনা থেকে সরে আসার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বেড়েছে।

গবেষণা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে তা এক অংকের ঘরে নেমে এসেছে। কেপলারের কমোডিটি রিসার্চ ডিরেক্টর ম্যাট স্মিথ জানিয়েছেন, প্রতিদিন হাতেগোনা কয়েকটি ট্যাংকার পার হওয়া ছাড়া প্রণালিটি মূলত বন্ধই রয়েছে।

অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরের নির্বাহী পরিচালক জিন সেরোকা মনে করেন, দু একটি জাহাজের সফল পারাপার বিশ্ববাজারে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আসল বিষয় হলো জাহাজ পরিচালনাকারী এবং বিমা কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে কোনো জাহাজকে এসকর্ট করছে না, তবে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের হিসাব মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৩৯টি জাহাজে হামলা হয়েছে এবং ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহকারী কনটেইনার জাহাজগুলোও আটকা পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং প্রতিষ্ঠান মার্স্কের বেশ কিছু জাহাজ মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

এই সংকটের ফলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ পরিবহন ভাড়াও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের ফলে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তা দূর হতে এবং প্রণালিটি পুনরায় সচল হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এস এম/ ২ জুন ২০২৬



Scroll to Top