৭৪ বছর পর আটলান্টিকে মিলল বিধ্বস্ত প্যান অ্যাম বিমানের ধ্বংসাবশেষ – DesheBideshe

৭৪ বছর পর আটলান্টিকে মিলল বিধ্বস্ত প্যান অ্যাম বিমানের ধ্বংসাবশেষ – DesheBideshe


৭৪ বছর পর আটলান্টিকে মিলল বিধ্বস্ত প্যান অ্যাম বিমানের ধ্বংসাবশেষ – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ২২ জুলাই – আটলান্টিক মহাসাগরে প্রায় সাড়ে সাত দশক আগে বিধ্বস্ত হওয়া প্যান অ্যাম এয়ারওয়েজের ‘ক্লিপার এন্ডেভার’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছে। পুয়ের্তো রিকোর উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রের প্রায় দুই হাজার ফুট গভীরে এই ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ জুন আন্ডারওয়াটার ড্রোন এবং উচ্চ রেজ্যুলেশনের সোনার প্রযুক্তির সহায়তায় এয়ার সি হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এবং ডিপ সি ভিশনের যৌথ অনুসন্ধানকারী দল বিমানটির অবস্থান নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনার ৭৪ বছর পর এই আবিষ্কারটি সম্ভব হলো।

১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল ডগলাস ডিসি ৪ মডেলের বিমানটি ৬৪ জন যাত্রী এবং ৫ জন ক্রু নিয়ে পুয়ের্তো রিকো থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানের ডান পাশের দুটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে পাইলট বাধ্য হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন।

প্রাথমিক আঘাতে বিমানের সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও কার্যকর উদ্ধারব্যবস্থার অভাব এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নির্দেশনার অভাবে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে বিমানটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৫২ জন যাত্রী প্রাণ হারান এবং মাত্র ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরেই বাণিজ্যিক বিমান ভ্রমণে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উড্ডয়নের আগে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার এবং জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে যে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়, তার প্রচলন এই দুর্ঘটনার পর থেকেই শুরু হয়। বর্তমানে ধ্বংসাবশেষের স্থানটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এস এম/ ২২ জুলাই ২০২৬



Scroll to Top