এমন দূরত্বের সাঁতারের জন্য শুধু শক্তিশালী শরীর থাকলেই হয় না। প্রয়োজন দীর্ঘ সময় ধরে একই ছন্দে কাজ করে যাওয়ার ক্ষমতা। দরকার মানসিক দৃঢ়তা। কুবকোভস্কির প্রস্তুতিও ছিল সেভাবে। দীর্ঘ সময় সাঁতারের অনুশীলনের পাশাপাশি সহনশীলতার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। মানসিক চাপ সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল খাবার ও পানীয় গ্রহণের পরিকল্পনা।
কারণ, ৫৫ ঘণ্টা ধরে শরীরকে কাজ করাতে হলে শুধু সাঁতার জানলেই চলে না। কখন কতটা শক্তি প্রয়োজন, কখন শরীরকে পানি দিতে হবে, কখন খাবার নিতে হবে, সবকিছুর হিসাব করতে হয়। তার ওপর বাল্টিক সাগরের পানি সব সময় শান্ত থাকে না। আবহাওয়া বদলে যেতে পারে, ঢেউ বাড়তে পারে, ঠান্ডা পানি শরীরকে দুর্বল করে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সাঁতারে ক্লান্তি তৈরি হয়। সবকিছু একসঙ্গে সামলে এগিয়ে যেতে হয়েছে কুবকোভস্কিকে।
কুবকোভস্কির এই যাত্রার উদ্দেশ্য শুধু ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখানো নয়। তিনি তাঁর সাফল্য উৎসর্গ করেছেন ‘ক্যানসার ফাইটার্স’ ফাউন্ডেশনের জন্য। তাঁর এই চ্যালেঞ্জ ঘিরে তহবিল সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই সাঁতারের মধ্য দিয়ে ২ লাখ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।
এক্সট্রিম স্পোর্টস বা চরম ক্রীড়ার সঙ্গে দাতব্য কাজকে আগেও যুক্ত করেছেন কুবকোভস্কি। ২৪ ঘণ্টা সাঁতারের বিশ্বরেকর্ড তাঁর দখলে আছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক জিতেছেন। ‘আলট্রা বাল্টিক সুইম’ প্রকল্পেরও উদ্যোক্তা তিনি। তবু তাঁর নিজের ক্যারিয়ারে বাল্টিক সাগর পাড়ি দেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।