৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন তৎপরতার অভিযোগ: ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় | চ্যানেল আই অনলাইন

৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন তৎপরতার অভিযোগ: ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড় | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পৃথক তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্দেশ্যে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে গোপন কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম তালিকায় আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কারা এতে জড়িত তা খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক শাহাদাত হোসেনকে। ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান সদস্য সচিব এবং সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হোসেন সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হাছান মিয়া বলেন, কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষকের নাম অভিযোগের তালিকায় রয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন আল রশিদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আতাউর রহমান। সদস্য সচিব করা হয়েছে লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার রেহেনা আক্তার মনিকে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের নাম অভিযোগের তালিকায় আসার পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এমতাজ হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাজ্জাত হোসেন। অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপহিসাব পরিচালক ইসরাফুল হক সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটিকে আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে অভিযোগের সত্যতা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষক জড়িত কি না, করণীয় এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমতাজ হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে চিঠি পেয়েছেন এবং শনিবার থেকে কাজ শুরু করবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ শিক্ষকের নাম অভিযোগের তালিকায় রয়েছে। বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক নাছির আহমাদকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ জামির হোসেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ-উল আজম সওদাগর। রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার (গ্রেড-২) মো. আব্দুল মালেক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটিকে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও একই অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

অভিযোগের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।

Scroll to Top