২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’, অ্যামনেস্টির সতর্কতা – DesheBideshe

২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’, অ্যামনেস্টির সতর্কতা – DesheBideshe

২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ‘দমনপীড়নের মঞ্চ’, অ্যামনেস্টির সতর্কতা – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ৩০ মার্চ – ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসর যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। আগামী ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে আসন্ন এই বিশ্বকাপ ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। লন্ডনভিত্তিক এই সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপ দমনপীড়ন এবং স্বৈরাচারী কার্যকলাপের মঞ্চে পরিণত হওয়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত ‘মানবতার জয় আবশ্যক’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপে অধিকার রক্ষা ও দমনপীড়ন মোকাবিলায় তিনটি আয়োজক দেশের ভক্ত, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, শ্রমিক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সংকট থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে রক্ষা করতে ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিফা সবার জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও অ্যামনেস্টি বলছে, এই প্রতিশ্রুতি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব পরিস্থিতির একেবারে বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্রে নিউ জার্সিতে ফাইনালসহ ৭৮টি ম্যাচ ১১টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য মানবাধিকার সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আগ্রাসী নির্বাসন প্রচেষ্টা, নির্বিচারে গ্রেফতার এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের আধাসামরিক ধাঁচের অভিযানের বিষয়টি সেখানে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আইসিই এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক গত মাসে জানিয়েছিলেন যে তারা বিশ্বকাপের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবেন। এদিকে উচ্চ মাত্রার সহিংসতার জবাবে মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিক্রিয়াও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী বেশ কয়েকটি দেশ যেমন আইভরি কোস্ট, হাইতি, ইরান এবং সেনেগালের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আয়োজক শহরগুলোর কোনো পরিকল্পনাতেই অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ১৬টি আয়োজক শহরের মধ্যে মাত্র চারটি শহর এখন পর্যন্ত তাদের মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টির অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার বিভাগের প্রধান স্টিভ ককবার্ন বলেন, ফিফা বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করবে। কিন্তু ভক্ত, খেলোয়াড়, সাংবাদিক এবং কর্মীদের এর মূল্য দিতে বাধ্য করা যায় না। ফুটবল সাধারণ মানুষের, কোনো সরকার, ফিফা বা স্পনসরের নয়। তাই এই টুর্নামেন্টের কেন্দ্রবিন্দুতে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বকাপের বাস্তব পরিস্থিতি যেন এর মূল প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এস এম/ ৩০ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top