
এশিয়া, ১৯ ফেব্রুয়ারি – ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ইমেইলের মাধ্যমে সাইবার হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, গত বছর বৈশ্বিক ইমেইল ট্রাফিকের প্রায় ৪৫ শতাংশই ছিল স্প্যাম। যার বড় একটি অংশজুড়ে ছিল প্রতারণামূলক বার্তা, ফিশিং লিংক কিংবা ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার। ব্যবহারকারীরা ১৪ কোটিরও বেশি ক্ষতিকর বা সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্টের মুখোমুখি হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইমেইলভিত্তিক হুমকির ক্ষেত্রে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, যেখানে মোট শনাক্তকরণের ৩০ শতাংশ ঘটেছে। এরপর ইউরোপ ২১ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা ১৬ শতাংশ, মধ্যপ্রাচ্য ১৫ শতাংশ এবং রাশিয়া ও সিআইএস ১২ শতাংশ নিয়ে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে। আফ্রিকায় এই হার ৬ শতাংশ। দেশ হিসেবে চীন তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। এরপর রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া, মেক্সিকো, স্পেন ও তুরস্ক। বিশেষ করে জুন, জুলাই ও নভেম্বর মাসে আক্রমণের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাইবার অপরাধীরা এখন একাধিক চ্যানেল ব্যবহার করে সমন্বিত কৌশলে আক্রমণ চালাচ্ছে। কিউআর কোড, ছদ্মবেশী লিংক ও ভুয়া ‘ফরওয়ার্ড’ মেইলের মাধ্যমে ফিশিংকে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘বিজনেস ইমেইল কম্প্রোমাইজ’ কৌশলও এখন আরও আধুনিক হয়েছে। ক্যাসপারস্কির অ্যান্টি-স্প্যাম বিশেষজ্ঞ রোমান দেদেনোক জানিয়েছেন, ইমেইল ফিশিংকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি ১০টি ব্যবসায়িক সাইবার হামলার মধ্যে অন্তত একটি ফিশিং দিয়ে শুরু হয়। বর্তমানে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে হ্যাকাররা খুব সহজেই ব্যক্তিগতকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য বার্তা তৈরি করছে, ফলে আক্রমণগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত ও লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাসপারস্কি তাদের ‘সিকিউরিটি ফর মেইল সার্ভার’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
এস এম/ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





