শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৬ জন শিক্ষককে এবং ভিন্ন আরেক কারণে আরেকজন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এছাড়া সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে আরও এক সহকারী অধ্যাপককে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ডের ‘৪৩/১০ নম্বর’ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা অননুমোদিতভাবে শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও তারা কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এরই প্রেক্ষিতে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে অফিস আদেশে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটিকালীন নেওয়া সমুদয় অর্থ বিধি মোতাবেক অতি দ্রুত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত হওয়া শিক্ষকরা হলেন— ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, প্রভাষক মো. খায়রুল বাশার ও প্রভাষক উপমা দাস; রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল; পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন; আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান; লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান; ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার; অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন; ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন; কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহ্সিন।
এদিকে শিক্ষাছুটি সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অফিস আদেশে জানানো হয়, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এই বরখাস্ত করা হয়েছে।




