
ঢাকা, ১৮ এপ্রিল – রাজধানীর বিজয়নগরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিকেলে আয়োজিত এই সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বিজয়নগর এলাকা থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল ও নাইটিংঙ্গেল মোড় অতিক্রম করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতার প্রধান ভিত্তি হলো জনসমর্থন। শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েও জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি।
বর্তমান সরকারকে জনরায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণ রাজপথে নামলে পালানোর পথ পাওয়া যাবে না।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের বর্তমান আচরণে মনে হচ্ছে না যে ৫ আগস্টের পর দেশে কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়েছে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী অভিযোগ করেন, যারা ক্ষমতায় বসেছেন তারা নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার দিকে ঝুঁকছেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাগপা এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য প্রদান করেন। তারা সবাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমালোচনা করে অবিলম্বে জুলাই বিপ্লবের সনদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। কর্মসূচি শেষে শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এনএন/ ১৮ এপ্রিল ২০২৬






