কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করে আলোচনায় আসা প্রতিষ্ঠান ‘নবীন পাঞ্জাবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নবীন হাশেমি হুমকি ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে দেশ ছেড়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। দেশত্যাগের বিষয়টি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেন। এর আগে একই দিন বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব ‘ইনশাআল্লাহ’।
নবীন হাশেমি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাকে ব্যবসা-সংক্রান্ত ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়, অন্যথায় তার বাকি ব্যবসাগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি জানান, প্রবাস জীবন শেষে করোনাকালে দেশে ফিরে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। তার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল কম দামে মানসম্মত পোশাক সরবরাহ করা এবং এর আয়-ব্যয় সমাজের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবন্ধী, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা কাজ করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার দাবি, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য পাওয়ার ফলে তারা মাত্র ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি-পাজামা বিক্রি করতে সক্ষম হন। তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, যার মধ্যে ‘প্রিন্স’ নামের একটি দোকানের মালিক মাইকেলও রয়েছেন, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদের হয়রানি করে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নবীন হাশেমি বলেন, তারা নানা বাধা ও চাপের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, কিন্তু কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেও তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মার্কেটে পাঞ্জাবি ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে এবং পাজামা ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি না করার অলিখিত চাপ ছিল।





