হাসপাতালে যুবকের ওপর আনসারদের হামলার অভিযোগ

হাসপাতালে যুবকের ওপর আনসারদের হামলার অভিযোগ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ, পূর্বনাম পিজি) প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের হাতে এক যুবক মারধরের শিকার হয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার ছবি ও বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ফেসবুক ব্যবহারকারী কাউসার মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি নিজের অ্যাকাউন্টে ঘটনার কয়েকটি ছবি দিয়ে লেখেন, তিনি মাকে চিকিৎসা করাতে বিএমইউয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়ে অভিযোগ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে আনসার সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। এরপর ২০২৫ জন আনসার সদস্য তাঁকে টেনে প্রশাসনিক ভবনে নিয়ে যায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার সময় তার মা ভবনের বাইরে চিৎকার করে ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও কেউ সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ করেন ওই যুবক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমইউয়ের এক উপপরিচালক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ঘটনাটি সম্ভবত দুদিন আগের। বৃহস্পতিবার ক্যান্সার ভবনের নিচে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছিল বলে শুনেছি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আমরা সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। অফিসিয়াল মন্তব্যের জন্য পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনাটি “ভুলভাবে উপস্থাপন” করা হয়েছে। বাহিনীর দাবি, ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যান্সার ভবনে আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

আনসার বাহিনীর উপপরিচালক (গণসংযোগ) মো. আশিকউজ্জামান বলেন, ‘দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা উভয় পক্ষকে পৃথক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। পরে কয়েকজন ব্যক্তি রেজিস্ট্রারের কক্ষে প্রবেশ করে উত্তেজনাকর আচরণ করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আনসার সদস্যরা ব্যবস্থা নেন। চিহ্নিত দুজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।’

বিএমইউ প্রশাসনের মিডিয়া সেল কর্মকর্তা সুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘আমরা তো হাসপাতালে শাহবাগের পাশে বসি। ক্যান্সার ভবন মূল বাউন্ডারির বাইরে। সেখানে কী ঘটেছে, এখনো নিশ্চিত নই। জেনে জানাতে পারব।’

Scroll to Top