হাতিয়ায় গৃহবধু ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের তদন্তে যা জানা গেছে | চ্যানেল আই অনলাইন

হাতিয়ায় গৃহবধু ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের তদন্তে যা জানা গেছে | চ্যানেল আই অনলাইন

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ধর্ষণের শিকার হতে হয় তাকে। কিন্তু ঘটনার সময় ও যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অভিযুক্তের দাবি, ওই সময় তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আবার হাসপাতালে ওই নারীর চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রেও রয়েছে গড়মিল। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তদন্তে ঘটনাস্থলে দুই দফায় মারামারির তথ্য পেয়েছে তারা।

গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসেন এক গৃহবধূসহ কয়েকজন। তারই তিন ঘন্টা পর বিকাল ৫টায় ওই গৃহবধূ পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে বলেন, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই নারীর দুই দফায় দুই ঘটনায় ভর্তির বিষয়টি রহস্য তৈরি করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা না হওয়ায় শারীরিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মারামারি ও ধর্ষণ, দুটিই পুলিশ কেইস বিধায় ওই নারীকে নেওয়া হয় লেবার রুমে। সন্ধ্যায় হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে আসেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা হান্নান মাসউদ। তারও দাবি, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে ওই নারীকে। তার অভিযোগের আঙ্গুল হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসনের দিকে।

ঘটনার পর পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসন হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে যান। যদিও ঘটনায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাননি বলে দাবি পুলিশের। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনা জেনে তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করে তারা। প্রাথমিক তদন্তে ওই স্থানে দুই দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীকে ধর্ষণের ঘটনা প্রচার হওয়ার পর নিজ ফেসবুকে লাইভে আসেন অভিযুক্ত রহমান হোসেন। তার দাবি, ধর্ষণের শিকার নারীর উল্লেখিত ঘটনার সময়ে তিনি নিজেই ভর্তি ছিলেন ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে। আর এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি অভিযুক্তের আশেপাশের প্রতিবেশীদের।

ওই নারীকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে বিএনপির সম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন বিএনপির নেতারা।

এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে সঠিক তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বিশিষ্টজনদের।

Scroll to Top