মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। হামলাটি দেশটির উপকূলীয় শহর বান্দার আব্বাস এলাকায় সংঘটিত হয় বলে জানা গেছে।
তবে এই হামলার বিষয়ে এখনো ইরান বা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। খবরটি নিশ্চিত হলে এটি চলমান যুদ্ধে ইরানের অন্যতম বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
তাংসিরি ২০১৮ সাল থেকে আইআরজিসি নৌবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ
হরমুজ প্রণালী, যা পারস্য উপসাগরকে উন্মুক্ত সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত করে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বর্তমানে ইরান এই প্রণালীতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সন্দেহ করা জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে, তবে কিছু নির্দিষ্ট জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে জ্বালানি পরিবহন প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে তা নেমে এসেছে মাত্র কয়েকটিতে।
ইরানের নতুন কৌশল ও প্রভাব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আরোপের দিকেও এগোচ্ছে, যেখানে কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
নেতৃত্বে পরিবর্তন, যুদ্ধ অব্যাহত
ইতোমধ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো এখনো কার্যকর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নেতৃত্ব আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।





