হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় রাডার স্টেশনে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আজ (৬ জুন) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই হামলা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পর সম্ভাব্য আরও হামলা প্রতিরোধে তারা পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশন লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালানো হয়।
এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির দাবি, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হামলার কারণে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির ফল। তবে সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হামলাটি ছিল ইরানের পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
চলমান সংকটের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল কার্যত সীমিত করে দেয়।




