আটলান্টা, মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম থেকে: বিশ্বকাপে অঘটন ঘটেই গেল। হট ফেভারিট স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে। এটা নজিরবিহীন নয়, তবে অপ্রত্যাশিত।
কেপ ভার্দে পশ্চিম আফ্রিকার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার। পুরো ৯০ মিনিট চেষ্টা করেও স্পেন কোনো গোল বের করতে পারেনি। একতরফা খেলায় এক দেয়াল রচনা করেছিল কেপ ভার্দে। মুহুর্মুহু আক্রমণের মধ্যেও লক্ষ্যচ্যুত হয় স্পেনের সবকটা আক্রমণ।
কেপ ভার্দে সম্পূর্ণ একটি অপরিচিত নাম। স্পেনের সঙ্গে লড়াই করে ফুটবল দুনিয়ায় এখন এক আলোচিত নাম। বিশ্বমঞ্চে তারা আলোচনার কেন্দ্রে। শিরোপা প্রত্যাশী স্পেন শুরুতেই হোঁচট খাবে এমনটি কেউই ভাবেননি। ভাবার কথাও নয়। কারণ কেপ ভার্দে কোনো ফুটবলশক্তি নয়।
স্পেনের কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তে ভেবেছিলেন ইয়ামাল ছাড়াই জয় ছিনিয়ে নেবেন। এমনটা ভাবারই কথা। কারণ তারা তো পয়েন্ট হারাতে আসেনি। এসেছে কাপ নিয়ে যেতে। কেন যেন মনে হয়, কোচ ফুয়েন্তে কেপ ভার্দেকে আন্ডারমাইন করেছিলেন। সে কারণে সুপারস্টার লামিনে ইয়ামালকে প্রথম একাদশে স্থান দেননি। ৭০ মিনিট পর্যন্ত যখন গোল হচ্ছিল না তখন ইয়ামালকে ডেকে পাঠান। ইয়ামাল ২০ মিনিট খেললেন, কিন্তু কোনো গোল পেলেন না।
কেপ ভার্দে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলো। একতরফা খেলায় কোনো গোল হলো না। ডিফেন্সিভ খেলার ইতিহাসে এটা নজির হয়ে রইলো। হাজার হাজার স্পেন সমর্থকের কান্না দেখে কে! প্লেয়াররাও দ্রুত মাঠ ছাড়তে চাননি।
আটালান্টা স্টেডিয়ামে সব হিসেব-নিকেশ পাল্টে গেল। কেপ ভার্দের স্বল্পসংখ্যক সমর্থকের বিরামহীন আনন্দের মধ্যেই এক পর্যায়ে স্পেনের তারকাখ্যাত জাতীয় দলের প্লেয়াররা মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেন। বিস্ময় বালক ইয়ামালের জন্য কতটা কষ্টের তা টিভির পর্দায় বারবার ভেসে উঠছিল।





