
সানা, ২০ জুলাই – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সোমবার ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা আসে। এর ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুতি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের আরোপিত অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধের জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চোখের বদলে চোখ নীতির ভিত্তিতে তারা অবিলম্বে এই সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে। তবে হুতিদের এই ঘোষণার পর সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। গত কয়েকদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকালও ইরানে মার্কিন হামলা হয়েছে এবং জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতির কারণে দেশ দুটির মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এমন এক সময়ে হুতিরা এই অবরোধের ডাক দিল যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এই ঘোষণার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেয়।তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পরবর্তীতে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব-এল-মান্দেব প্রণালি যদি হুতিরা বন্ধ করে দেয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে বিশ্বে তেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ কমেছে।
এনএন/ ২০ জুলাই ২০২৬




