১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর হলেও গণভোটের তারিখ ও সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় এবং জট খোলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে জানায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইসির তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, ৩০০ সংসদীয় আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। নতুন বছরে দেশবাসী একটি নিরাপদ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশের প্রত্যাশা করেন।
বিগত বছরজুড়েই নাগরিকদের প্রধান উদ্বেগ ছিল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি, লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসে কমপক্ষে ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন। মাজারে হামলা, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ, নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিচারবহির্ভূত হত্যা, হেফাজতে মৃত্যুও বন্ধ হয়নি।

