যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

এর আগে শনিবার (২০ জুন) ওয়াশিংটন থেকে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
রোববার সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর আগে জেডি ভ্যান্স জানান, মার্কিন বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইতিমধ্যে সেখানে অবস্থান করছেন এবং আলোচনার বিভিন্ন কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
এরই মধ্যে আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরানি প্রতিনিধিরাও। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, মূল আলোচনার আগে শনিবারই ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচক দল জুরিখে পৌঁছেছে। এছাড়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শীর্ষ আলোচনায় অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারও অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই টেবিলে অংশ নেবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্জিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে ইসলামাবাদ তার সর্বাত্মক সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুনঃ
এদিকে এই শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া একজন শীর্ষ কূটনীতিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনার প্রথম দিনের মূল এজেন্ডায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নিয়ে একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশন যুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসার পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম প্রধান আলোচ্য বিষয়। তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ত্রিদেশীয় মধ্যস্থতা আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না ইসরায়েল, হিজবুল্লাহ এবং লেবানন সরকারের কোনো প্রতিনিধি।



