সেনেগালের কাছ থেকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে চরম বেআইনি বলে উল্লেখ করেছে দেশটির সরকার। এই ঘটনায় কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলে (সিএএফ) এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে তারা।
সেনেগাল সরকার বলেছে, ‘এই অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত গুরুতর সিদ্ধান্তটি বিধিমালার সুস্পষ্ট ভ্রান্ত ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে একটি চরম বেআইনি ও অন্যায্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিরোপা কেড়ে নেওয়ার এই অযৌক্তিক প্রচেষ্টাকে সেনেগাল প্রত্যাখ্যান করছে।’
এছাড়া সন্দেহজনক দুর্নীতির’ বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সেনেগাল সরকার।
এর আগে শিরোপা কেড়ে নেয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করবে।
বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘এটি অন্যায্য, নজিরবিহীন এবং অগ্রহণযোগ্য। সেনেগালের ফুটবলের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস-এ আপিল করবো।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মরক্কোতে হয়েছিল আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল। বিতর্ক, উত্তেজনা আর নানা নাটকীয়তার ওই ফাইনালে ১-০ গোলে স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। তবে প্রায় দুই মাস পর ফাইনাল ম্যাচের ফলাফল পাল্টে গেছে। মঙ্গলবার আপিল বিচারকরা আশ্চর্যজনকভাবে মরক্কোকে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করে।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন জনায়, তাদের আপিল বোর্ড রায় দিয়েছে যে সেনেগাল ফাইনাল থেকে ‘ওয়াকওভার দিয়েছে’ এবং অতিরিক্ত সময়ে তাদের ১-০ গোলের জয়টি আয়োজক দেশ মরক্কোর জন্য ৩-০ গোলের ওয়াকওভার জয় হিসেবে গণ্য হয়।
সেনেগালের নানা বিতর্কের পর মরক্কোর ফুটবল সংস্থা আপিল করে। ক্যাফের ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়, বল হয়েছে সেনেগাল নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তাদের মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার আচরণটি নিয়ম ভঙ্গের ৮২ ধারার অনুচ্ছেদের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ৮৪ ধারার অনুচ্ছেদে সেনেগাল মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়াতে তারা ৩-০ গোলে হেরেছে বলে ঘোষণা করা হয়। ফলে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা মরক্কোর হাতে তুলে দেয়া হবে।
মরক্কো ও সেনেগোল নির্ধারিত সময়ে আক্রমণাত্মক খেলেও জালের দেখা পায়নি। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে পেনাল্টি পায় মরক্কো। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি সেনেগালের কোচ এবং খেলোয়াড়েরা। রেফারির সিদ্ধান্তে সেনেগালের কোচ প্যাপে থিয়াও এতটাই চটে যান যে, পুরো দলকে নিয়ে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর সাদিও মানে সবাইকে ডেকে নিয়ে মাঠে আসেন এবং খেলা শুরু হয়। এ সময় সেনেগালের সমর্থকেরাও মাঠে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন।
মরক্কোর সুযোগ আসে প্রায় ৫০ বছর পর আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই দায়িত্ব নেন ব্রাহিম দিয়াজ, তিনি নেন পানেনকা শট। পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। আক্ষেপ বাড়ে মরক্কোর, আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় সেনেগালিজরা। খেলা গড়ায় অতিরক্ত সময়ে যেখানে ৯৪ মিনিটে গোলও পেয়ে যায় সেনেগাল। ইদ্রিসা গুয়ের অ্যাসিস্টে গোল করেন প্যাপ গুয়ে। শিরোপা উঠে সাদিও মানের সেনেগালের হাতে।





