মদিনার আওস গোত্র যে চারজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে সর্বদা গর্ব করত, খুজায়মা ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
আনাস (রা.) বলেন, আনসারদের আওস ও খাযরাজ গোত্র যখন নিজেদের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করছিল, তখন আওস গোত্র গর্ব করে বলেছিল, ‘আমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছেন যাঁকে ফেরেশতারা গোসল করিয়েছেন (হানজালা ইবনে আবু আমের), যাঁর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল (সাদ ইবনে মুআজ), যাঁকে শাহাদতের পর ভিমরুল পাহারা দিয়েছিল (আসিম ইবনে সাবিত) এবং যাঁর সাক্ষ্যকে নবীজি দুজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান মর্যাদা দিয়েছেন (খুজায়মা ইবনে সাবিত)। (হাকিম নিশাপুরি, আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, হাদিস: ৭১৭২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, বৈরুত, ১৯৯০)
জীবনাবসান
নবীজির ওফাতের পরও খুজায়মা (রা.) ইসলামের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ৩৭ হিজরিতে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধে তিনি খলিফা আলির শিবিরের অন্যতম প্রধান সেনাপতি ও নীতিবান নেতা ছিলেন। এই যুদ্ধেই তিনি বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হন।
তাঁর মৃত্যুতে খলিফা আলি (রা.) গভীরভাবে শোকাহত হয়ে বলেছিলেন, ‘কোথায় আমার সেই ভাইয়েরা? কোথায় আম্মার? কোথায় ইবনুত তাইয়িহান? আর কোথায় সেই জুশ-শাহাদাতাইন খুজায়মা?’ (ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ১৬/৩৭১, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)
সাহাবি খুজায়মার জীবন আমাদের শেখায় যে নবীজির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা ও অন্ধ বিশ্বাসই একজন মুমিনকে ইতিহাসের পাতায় অমর ও অনন্য মর্যাদার আসনে আসীন করতে পারে।


