ভারত, গোয়া থেকে: মেয়েদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার মঞ্চে উঠেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাসে জয়সূচক গোল করেন মোছাম্মৎ সাগরিকা, টানা তৃতীয় আসরে ফাইনালে পৌঁছায় বাংলাদেশ। আগের দুই আসরে শিরোপা জিতে ফিরেছিল লাল-সবুজের দল।
আগামী ৫ জুন টানা তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্যে ফাইনালে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হবে রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও ভুটান ম্যাচের জয়ী দল।
বুধবার ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণের পসরা সাজায় নেপাল। ১২তম মিনিটে এসে প্রথম আক্রমণ গড়তে পারে বাংলাদেশ। সেটাও নেপাল ডিফেন্সে আটকে যায়। বাংলাদেশের প্রথম ১৫ মিনিট ছিল ভুলে ভরা।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে নেপালের আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মিলি আক্তার। পরের মিনিটে আবারও ত্রাতা হন মিলি। ২২ মিনিটে কর্নার আদায় করে নেয় নেপাল, ২৩ মিনিটে সেখান থেকে গোল আদায় করে নেয় দলটি। গোল করেন গীতা রানা।
পরের মিনিটে বাংলাদেশ কর্নার আদায় করে নেয়, ডি বক্সের মধ্যে বল ফেললেও কেউ মাথা ছোঁয়াতে পারেননি। বাংলাদেশও সমতার সুযোগ হারায়। ২৮ মিনিটে কুলিং বিরতিতে যায় দুদল।
৩৩ মিনিটে মারিয়া মান্দার থেকে বল কেড়ে নেয় নেপাল। ওই বলে কর্নার আদায় হলে হেড করলে মিলি ঠেকিয়ে দেন। ৩৫ মিনিটে প্রীতি রায়ের জোরাল শট মিলির হাতে লেগে বারে ছোঁয়। আবারও বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে দুই পরিবর্তন করে বাংলাদেশ। কোচ পিটার জেমস বাটলার সুরভী আকন্দ প্রীতি ও উমেলা মারমাকে তুলে নিয়ে নামান তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে।
৪৪ মিনিটে ঋতুপর্ণাকে ডি বক্সের বাইরে ফাউল করে নেপাল। ওই শটে বল বক্সের মাঝে ফেলেন মারিয়া, আদায় করে নেন কর্নার। ৪৫ মিনিটে কর্নার থেকে ঋতুপর্ণার বাঁকানো শটে গোল আসে, ১-১ সমতায় আসে বাংলাদেশও।
বিরতি থেকে ফিরে আবারও আক্রমণ শুরু করে নেপাল। এবার ছেড়ে কথা বলেনি বাংলাদেশ। ৫৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের আক্রমণ এবং ঋতুপর্ণার ওয়ান টু ওয়ান পাস নেপাল গোলকিপার ঠেকিয়ে দেন। এসময় মনিকা চাকমা মাঠে নামেন।
বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু এ ম্যাচেও ভুল করেছেন। ৬০ মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল দিয়ে ফেলেন রেখা পোড়েলকে। যদিও প্রতিপক্ষ গোল আদায় করতে পারেনি। ৬৪ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের চোখ ধাঁধানো ক্রস, মনিকার হেড বারের উপর দিয়ে যায়।
নেপালের সারু লিম্বু ৬৯ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরাল শট করেন, ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মিলি আক্তার। ৭২ মিনিটে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে তুলে সাগরিকাকে নামান বাটলার। সুরভী আফরিন ৭৪ মিনিটে ডি বক্সে ভুল করে বল দেন নেপালকে, তবে বিপদ হননি, কর্নার আদায় করে নেপাল।
ম্যাচের ৭৮ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল আসে সাগরিকার দিকে। সাগরিকা জোরাল শট নিলে ঠেকিয়ে দেন নেপাল গোলকিপার। গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। শাহেদা আক্তার রিপা ৮৮ মিনিটে ভালো আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাননি।
ম্যাচের শেষ মিনিটে আক্রমণ গড়ে নেপাল, থ্রু বলে গোলকিপার মিলি আক্তার অনেকটা বেরিয়ে আসেন। পরে আফঈদা বল নিয়ে কর্নারের মাধ্যমে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দেন বাংলাদেশকে। খেলা প্রায় শেষ হবে তখন, রাইট উইং দিয়ে বাংলাদেশের আক্রমণ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাসে গোল করেন সাগরিকা, ২-১ ব্যবধানে ফাইনালে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।




