
আনকারা, ১৩ মার্চ – ইরান কেন্দ্রিক সহিংসতা যাতে আর বৃদ্ধি না পায়, সে লক্ষ্যে তুরস্ক জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। বৃহস্পতিবার তুরস্কের রাজধানী আনকারায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে এরদোগান উল্লেখ করেন, কূটনীতি এবং সংলাপই ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তির সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
তিনি নিশ্চিত করেন যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে বিদ্যমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তুরস্ক অত্যন্ত ধৈর্য এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্ব শান্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। জাতিসংঘের মহাসচিবের তুরস্ক সফরের প্রসঙ্গ টেনে এরদোগান বলেন, ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আন্তোনিও গুতেরেস অত্যন্ত নিরপেক্ষতা এবং প্রজ্ঞার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শরণার্থী সুরক্ষা, বিশ্বজনীন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শাটল কূটনীতিতে গুতেরেসের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার স্বীকৃতি হিসেবে গুতেরেসকে আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার তুলে দিতে পেরে তিনি বিশেষ আনন্দ প্রকাশ করেন। পবিত্র রমজান মাস সমগ্র মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে এরদোগান আশা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক তাদের বৈদেশিক নীতিতে সর্বদা দেশে শান্তি ও বিশ্বে শান্তি এই নীতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখে। এটি মূলত আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা গাজি মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের রেখে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার। তুরস্ক সর্বদা জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাগত মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এস এম/ ১৩ মার্চ ২০২৬





