মুক্তির পর থেকেই আলোচনায় নেটফ্লিক্সের নতুন হিন্দি রোমান্টিক সিরিজ ‘মুসাফির ক্যাফে’। গত ২৪ জুলাই মুক্তির পর ভারত ছাড়িয়ে বাংলাদেশেও দর্শকের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি করেছে সিরিজটি। চেনা প্রেমের গল্প, সম্পর্কের টানাপোড়েন, দূরত্ব আর ভুল সময়ে জীবনের মোড় বদলে যাওয়ার গল্প- সব মিলিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে আট পর্বের এই সিরিজ।
তবে ‘মুসাফির ক্যাফে’র গল্পে এমন কিছু নেই, যা আগে দেখা যায়নি। একজন পুরুষ, একজন নারী, পরিবারের পছন্দে বিয়ের জন্য দেখা হওয়া, সেই সম্পর্কের অপ্রত্যাশিত পরিণতি এবং পরে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়া- রোমান্টিক গল্পের পরিচিত উপাদানই এখানে রয়েছে। তারপরও সিরিজটি নিয়ে এত আলোচনা কেন?
গল্পটা চেনা, তবে অনুভূতিটা নিজস্ব
সিরিজে সফটওয়্যার প্রকৌশলী চন্দর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিক্রান্ত ম্যাসি। পরিবারের পছন্দে ভোপালে সুধার সঙ্গে তার দেখা হয়। সুধা চরিত্রে আছেন বেদিকা পিন্টো। তিনি মুম্বাইয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে বিভোর একজন আইনজীবী। বিবাহবিচ্ছেদ নিয়েই তিনি কাজ করেন। অন্যদিকে চন্দর সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করলেও ভেতরে পোষেন নিরিবিলি জীবন, পাহাড়ে একটি ক্যাফে আর নিজের মতো করে বেঁচে থাকাই তার স্বপ্ন।
সুধার সাথে প্রথম দেখায় যে সম্পর্ক কোথাও যাওয়ার কথা ছিল না, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় ভালোবাসা। কিন্তু ভালোবাসার সঙ্গে সব সময় ভাগ্য বা সময়ের মিল হয় না। উচ্চাকাঙ্ক্ষা, দূরত্ব আর ভুল সময় তাদের সম্পর্ককে নিয়ে যায় ভিন্ন পথে।
গল্প এগিয়ে যায় কয়েক বছর। চন্দর এবার মুসৌরিতে নিজের সেই স্বপ্নের ক্যাফে তৈরি করেছেন। তাঁর জীবনে এসেছে নতুন মানুষ প্রীতি, যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন মহিমা মাকওয়ানা। কিন্তু অতীত কখনো পুরোপুরি অতীত হয়ে থাকে না। একসময় সেই ক্যাফের দরজায় আবার ফিরে আসে সাবেক প্রেমিকা সুধা!
দুই সময়ে এগিয়েছে গল্প
সিরিজটির গল্প দুটি সময়কে পাশাপাশি রেখে এগিয়েছে। একদিকে ২০১৮ সালের ভোপাল, যেখানে চন্দর ও সুধার সম্পর্কের শুরু। অন্যদিকে কয়েক বছর পরের সময়, যেখানে পুরোনো সেই সম্পর্কের অপূর্ণতা এখনও নীরবে বর্তমান।
আর এখানেই সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ। দর্শককে কোনো সহজ উত্তর দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত কে কাকে বেছে নেবে, সম্পর্কের পরিণতি কী হবে- এসব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর না দিয়েই শেষ হয় সিরিজটির প্রথম মৌসুম।
সুধা যখন বহু বছর পর চন্দরের ক্যাফেতে ফিরে আসে, তখন দুজনের মাঝে জমে থাকা না বলা কথাগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় দৃশ্য। এরপরই পর্দা কালো। নেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নেই প্রচলিত অর্থে সুখী সমাপ্তি।
সম্পর্কের পরিণতি
‘মুসাফির ক্যাফে’র সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই। সিরিজটি দেখিয়েছে, ভালোবাসা থাকলেই সব সম্পর্কের পরিণতি এক হয় না। কখনো মানুষ ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে এগিয়ে যায়, কারণ জীবন থেমে থাকে না।
চন্দর সুধাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দেয়নি। বরং সময়, পরিস্থিতি ও জীবনের বাস্তবতা তাকে অন্য পথে নিয়ে গেছে। সম্পর্কের এই অসম্পূর্ণতাই সিরিজটিকে অন্য অনেক রোমান্টিক গল্পের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
‘মুসাফির ক্যাফে’ মূলত দিব্য প্রকাশ দুবের একই নামের হিন্দি উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। ফলে গল্পটি একেবারে নতুন কোনো ধারণা নয়। বরং পরিচিত এক আবেগকে আট পর্বে ধীরে ধীরে মেলে ধরেছে সিরিজটি।
হয়তো এ কারণেই দর্শকের কাছে ‘মুসাফির ক্যাফে’ এতটা পরিচিত মনে হচ্ছে। এখানে প্রেমের নতুন কোনো সংজ্ঞা নেই, নেই অবিশ্বাস্য কোনো গল্পও। আছে এমন এক অনুভূতি, যার কোনো না কোনো রূপ অনেকেই জীবনের কোনো এক সময়ে অনুভব করেছেন; ভালোবাসা ছিল, কিন্তু সময়টা ঠিক ছিল না।
আর সেই চেনা কষ্টটাকেই ধীর গতিতে, যত্ন নিয়ে পর্দায় তুলে ধরেছে ‘মুসাফির ক্যাফে’। ফলে গল্প শেষ হওয়ার পরও চন্দর-সুধার অসম্পূর্ণ সম্পর্কটি দর্শকের মনে থেকে যাচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া





