সমালোচনা হোক গঠনমূলক, ষড়যন্ত্র নয়: রুহুল কবির রিজভী – DesheBideshe

সমালোচনা হোক গঠনমূলক, ষড়যন্ত্র নয়: রুহুল কবির রিজভী – DesheBideshe


সমালোচনা হোক গঠনমূলক, ষড়যন্ত্র নয়: রুহুল কবির রিজভী – DesheBideshe

ঢাকা, ৮ মে – গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত গড়ে তুলতে সরকারের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। তবে সেই সমালোচনা যেন কেবল সমালোচনার খাতিরে না হয়ে গঠনমূলক হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির আসন্ন মতবিনিময় সভার প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আগামীকাল শনিবার (৯ মে) বিএনপি এবং এর তিন অঙ্গসংগঠন—যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

রিজভী জানান, আগামীকালকের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বা সশরীরে যুক্ত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের গত দুই-তিন মাসে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে তৃণমূলের মতামত নেওয়াই এই সভার মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো তৃণমূল পর্যায়ে কেমন প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে জেলা পর্যায়ের নেতারা সরাসরি কথা বলবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরাও তাঁদের কার্যক্রমের চুলচেরা বিশ্লেষণ তুলে ধরবেন।”

সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন আন্দোলন ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে রিজভী দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াইয়ের স্মৃতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন: “গণতন্ত্র মানেই সরকার কাজ করবে আর বিরোধীদল সমালোচনা করবে। সরকারের ভুল ধরিয়ে দিলে রাষ্ট্র আরও কার্যকর হয়। কিন্তু যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলতে মিথ্যাচার করা হয়, তবে তা রাজনীতির সংজ্ঞায় পড়ে না, বরং তা ষড়যন্ত্র।”

সাবেক সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেন যে, ক্ষমতায় থাকা বা বাইরে থাকার সময় মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসা।

আগামী নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, জনগণই হচ্ছে শেষ কথা। “বিরোধীদলের গঠনমূলক সমালোচনা যদি ইতিবাচক হয়, তবে জনগণই তার মূল্যায়ন করবে। সরকার সঠিক কাজ করছে কি না, তা আগামী নির্বাচনে জনগণের রায়েই প্রতিফলিত হবে।”

পরিদর্শনকালে রিজভীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দলীয় সূত্র বলছে, এই মতবিনিময় সভাটি সরকারের প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন গণতন্ত্রের চিরাচরিত নিয়মকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ‘ষড়যন্ত্র’ এবং ‘গঠনমূলক সমালোচনা’র মধ্যে যে সূক্ষ্ম রেখা রয়েছে, তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে তিনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দিলেন।

এনএন/ ৮ মে ২০২৬



Scroll to Top