সঞ্চয়পত্রে সুসংবাদ | চ্যানেল আই অনলাইন

সঞ্চয়পত্রে সুসংবাদ | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। ফলে আগের মুনাফার হারই বহাল থাকছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)। 

সেখানে বলা হয়েছে: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৩১-১২-২০২৫ তারিখ পর্যন্ত বলবদ মুনাফার হার আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বহাল রাখা হইলো এবং  ৩০ -১২-২০২৫ তারিখের জারিকৃত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হইলো। অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব মোঃ মোবারক হোসেন।

এর ফলে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে হারে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা পাওয়া যাচ্ছিল, আগামী ছয় মাস-অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্তও সেই হারেই বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় আগের হারই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিল সরকার।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা এবং এর বেশি বিনিয়োগে কম মুনাফা দেওয়ার নিয়ম আগের মতোই থাকছে। সরকার আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে থাকে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীন সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বহাল থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার থাকবে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশই বহাল থাকছে।

এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ আগের মতোই থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সঞ্চয়পত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ভরসা। অনেক পরিবার বিপদের সময়ে সঞ্চয়পত্র ভেঙে খরচ মেটায়, আবার অনেকে নিয়মিত সংসার ব্যয়ের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকেই চালান। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্তে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা স্বস্তি পেলেন।

Scroll to Top