যুদ্ধের ইসলামি মূলনীতি হলো ‘মানবতা সুরক্ষার জন্য যুদ্ধ এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ’। বদর যুদ্ধের মানবিকতার দৃষ্টান্ত যুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ। ‘বদরের বন্দীদের প্রতি হজরত যে আদর্শ ব্যবহার দেখালেন, জগতের ইতিহাসে তার তুলনা মেলে না। নবীজি (সা.)–এর আদেশে মদিনায় আনসার এবং মুহাজিরগণ সাধ্যানুযায়ী বন্দীদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে আপন আপন গৃহে স্থান দিলেন এবং আত্মীয় কুটুমের মতোই তাদের সঙ্গে আচরণ করলেন।” বন্দীদের স্বগতোক্তি ছিল, “মদিনাবাসীর ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হোক। তারা আমাদের উটে চড়তে দিয়ে নিজেরা পায়ে হেঁটে গেছে, নিজেরা শুষ্ক খেজুর খেয়ে আমাদের রুটি খেতে দিয়েছে।”’ (বিশ্বনবী গোলাম মুস্তফা, পৃষ্ঠা: ১৬০)
সুফি দার্শনিক মহাকবি হজরত শেখ সাদি (রহ.) বলেন, ‘খোদার পথে আছে যেসব ধার্মিক, তং (ছোট করা, কষ্ট দেওয়া) করে না তারা কভু শত্রুরও মন; তোমার কবে অর্জন হবে এই পুণ্যস্থান, বন্ধুর সঙ্গেও করছ তুমি অন্যায় আচরণ।’ (গুলিস্তাঁ)
মহানবী (সা.)–এর সুন্নত ও সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে পারলে, সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ অনুসরণ করলে, রমজানের লক্ষ্য তাকওয়া অর্জিত হলে; আল্লাহর সাহায্য আসবেই। আজও বদরের মতো অলৌকিক বিজয় সংঘটিত হবে। সত্য, সুন্দর, সাম্য ও ইনসাফের মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।
-
অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম



