পরবর্তীকালে হজরত হাফসা (রা.) নিজের আচরণের জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তাঁর চোখের অশ্রু প্রমাণ করেছিল, তিনি ভুল বুঝতে পেরেছেন। নবীজিও তাঁর আন্তরিক অনুতাপকে মূল্য দিয়েছেন। কিছু বর্ণনায় এসেছে, তাঁকে এক তালাক দেওয়ার পর ফেরেশতা জিবরাইলের পরামর্শে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
কারণ, হাফসা ছিলেন অধিক রোজাদার, অধিক ইবাদতকারী এবং জান্নাতে নবীজির স্ত্রীদের অন্যতম। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ২/২২৮; আল ইসবাহ ফি তাময়িযিস সাহাবা: ৪/২৭৩)
এই ঘটনাগুলো কেবল ইতিহাস নয়; বরং প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি জীবন্ত শিক্ষা। আজ দাম্পত্য জীবনের অসংখ্য বিচ্ছেদের পেছনে রয়েছে অস্থিরতা, অহংকার, অসহিষ্ণুতা ও একে অপরকে না বোঝার প্রবণতা। অথচ নববি আদর্শ আমাদের শেখায়—রাগের সময় ধৈর্য ধরো, ভুল হলে ক্ষমা করো, অভিমান হলে কথা বলো, আর সম্পর্ক রক্ষাকে অগ্রাধিকার দাও।
স্বামী যদি নবীজির ধৈর্য অনুসরণ করেন, স্ত্রী যদি উম্মুল মুমিনিনদের মতো ভুল বুঝতে পারলে ফিরে আসেন, আর অভিভাবকেরা যদি হজরত আবু বকর ও হজরত ওমরের মতো ন্যায়পরায়ণ হন, তাহলে অসংখ্য ভাঙনের হাত থেকে পরিবারগুলো রক্ষা পেতে পারে।
দুটি ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষের একসঙ্গে জীবন যাপন করতে গেলে কিছু ভুল বোঝাবুঝি, কিছু প্রত্যাশা, কিছু অপূর্ণতা থাকবেই। ইসলাম এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি; বরং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাকে গ্রহণ করেছে। আর সেই গ্রহণযোগ্যতার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় নবীজির পবিত্র সংসারজীবনে।



