যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে সরব সাবেক জাতীয় গোলরক্ষক আমিনুল হক। আজ সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বেও তার বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল বিসিবি ও ক্রীড়াঙ্গনের অনিয়ম প্রসঙ্গ। জানালেন, বিগত সময়ে বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে যারা ভোটের অধিকার হরণসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার সংসদ অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক এমন জানান।
সংসদে আমিনুল হক বলেন, ‘বিগত সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল ছিল, তা ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং অপকর্ম করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বোর্ডের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আমিনুল জানান, বিসিবির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের অস্বাভাবিক হিসাব তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবশেষ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। দুদক মহাপরিচালকের কাছে আমার আহ্বান, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা তথ্য থাকলে আমাদের জানান। দুর্নীতিবাজদের আমলনামা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী শাসনামলে ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণের মাধ্যমে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এখন ক্রীড়াঙ্গনকে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত করার কাজ করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০০৮ সালের পর থেকে যারা দলীয় পরিচয়ে অবৈধভাবে বিসিবিসহ বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করতে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া আমিনুল হক এর আগেই ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না পারার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে গত বছরের ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
ক্রীড়াঙ্গনের এই শুদ্ধি অভিযান ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের খেলাধুলাকে পুনরায় সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনাই এখন মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।





