জীবনের নানা ক্ষেত্রে দোয়া
দোয়াকে আমরা কেবল বিপদের হাতিয়ার মনে করি, কিন্তু মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল দোয়াময়। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমানো পর্যন্ত—খাওয়া, পোশাক পরা, ঘর থেকে বের হওয়া বা ঘরে ঢোকা—সবকিছুতেই তাঁর নির্দিষ্ট দোয়া ছিল (বুখারি: ৬৩১১)। সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় আল্লাহমুখী থাকতেন। দোয়া তাঁর কাছে কেবল বিপদের প্রতিক্রিয়া ছিল না, বরং ছিল প্রতিদিনের অন্যতম ইবাদত।
দোয়ার জন্য আলাদা করে সময়ের প্রয়োজন হয় না। আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও অসংখ্য মুহূর্ত আছে যখন আমরা দোয়া করতে পারি। যানজটে বসে থাকা কিংবা কারো জন্য অপেক্ষা করার সময়টুকুতে মনে মনে দোয়া করা সম্ভব। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারো জন্য কল্যাণ কামনা করাও একটি দোয়া। তবে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—অন্যের দোয়ার পোস্টে কমেন্টে কেবল ‘আমিন’ লেখা যথেষ্ট নয়, আমিন মূলত মুখে উচ্চারণ করতে হয়। বরং কারো ভালো কোনো সংবাদ পেলে ‘মাশাআল্লাহ’ অথবা ‘আল্লাহ কবুল করুন’—এমন অর্থপূর্ণ দোয়া করা যেতে পারে।
যিনি নিয়মিত দোয়া করেন, তাঁর কণ্ঠস্বর আল্লাহর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। পক্ষান্তরে যে কেবল বিপদে পড়ে দোয়া করে, তার ডাক কিছুটা অপরিচিত হিসেবে আসমানে পৌঁছায়। মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি চায় যে কঠিন বিপদ-আপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তার দোয়া কবুল করুন, সে যেন সচ্ছল ও সুখের সময়ে বেশি বেশি দোয়া করে (তিরমিজি: ৩৩৮২)।
দোয়ার পদ্ধতি
দোয়ার আদব হিসেবে পবিত্র থাকা, কিবলামুখী হওয়া এবং আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ দিয়ে শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সম্ভব না হলে যেকোনো অবস্থায় দোয়া করা যায়। নারীরা তাঁদের পিরিয়ড চলাকালীন যখন নামাজ পড়তে পারেন না, তখনও বেশি বেশি দোয়া করার মাধ্যমে ইবাদত চালিয়ে যেতে পারেন। দোয়া নিজের ভাষায় নিজের মতো করে করা যায়, তবে কোরআনের আয়াতে বর্ণিত দোয়া বা মহানবী (সা.)-এর শেখানো দোয়া সবচেয়ে উত্তম।
দোয়া আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় শর্ত হলো হালাল উপার্জন। কারণ হারাম খাবার গ্রহণ করলে দোয়া কবুল হয় না (মুসলিম: ১০১৫)। মনে রাখতে হবে, দোয়া কেবল চাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির গোপন আলাপন। এই আলাপন বান্দাকে আল্লাহর অনেক কাছে নিয়ে যায়। আর আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই ইবাদতের চূড়ান্ত লক্ষ্য।



