ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৮ সাসের এক ফুটফুটে শিশু পুত্র সন্তানকে জ্যান্ত পূতে মারতে বাড়ির পাশে কবর খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে গর্ভধারিণী এক মায়ের বিরুদ্ধে। অমানবিক হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ঘেরাও করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে একটি মাটির ঢিবির সংলগ্ন স্থানে গর্ত খোঁড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্বজনরা বলছেন, পেটে আসার সময় শিশু সৌরভকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল এখন তাকে অন্যের কাছে দত্তক দেয়ার জন্যই সংসারে অশান্তি করে চলেছে শিশুর পাষণ্ড মা শাহনাজ। আর তাই মায়ের অবহেলার শিকার ওই শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ ভাগ্যে জুটতো না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতভর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলে। প্রতিবেশীরা রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, দাম্পত্য কলহ হলেই শিশু সৌরভ নির্যাতনের শিকার হতো।
তিবেশী শাবনুর আক্তার বলেন, ‘সৌরভ ছোটবেলা থেকেই মায়ের অবহেলার শিকার। শিশুকালে তাকে ঠিকমতো দুধও খাওয়ানো হতো না। অনেক সময় পানি খাইয়ে রাখা হতো। বিভিন্ন সময় শিশুটিকে মারধর ও ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বাবা সবসময় তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেন।’
শিশুটির বাবা হারুন মিয়া জানান, ‘আমার স্ত্রী প্রায়ই বলত, সে সন্তান লালন-পালন করবে না। সামান্য বিষয়েও ছেলের ওপর নির্যাতন চালাত। আজকের ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা।’
সৌরভের দাদা আলাল উদ্দিন বলেন, ‘এর আগেও শিশুটিকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন এলাকাবাসী গিয়ে বাধা দেয়। আজকের খবর শুনে ছুটে এসে দেখি, আমার নাতি সৌরভকে জীবিত কবর দেওয়ার জন্য গর্ত খুঁড়েছে।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘আমি ছেলেকে কবর দিতে চাইনি। সকালে রাগের মাথায় গর্ত খুঁড়েছিলাম। সন্তানদের প্রতি অবহেলার অভিযোগও সত্য নয়। তারা দাদির কাছেই বেশি সময় থাকত।’



