‘শিশুদের হাত ধরেই গড়বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’

‘শিশুদের হাত ধরেই গড়বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি। তারা যদি সুশিক্ষা, নৈতিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, তবে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণ সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ

সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। তবে এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন প্রজন্মকে এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আজ যারা মাঠে খেলছে কিংবা গ্যালারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করছে, তাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে। তাই প্রত্যেককে আত্মগঠনে আন্তরিক হতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাস্তা, পুকুর, নদী কিংবা আশপাশের পরিবেশ যেন পরিচ্ছন্ন থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কেউ যদি যত্রতত্র ময়লা বা প্লাস্টিকের বোতল ফেলে, তাহলে তাকে বিনয়ের সঙ্গে নিরুৎসাহিত করতে হবে। প্রয়োজনে সেই ময়লা নির্ধারিত স্থানে ফেলার উদ্যোগও নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পুকুর বা নদীতে কেউ ময়লা ফেললে বন্ধুদের নিয়ে তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করতে হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হলে মানুষ নিরাপদ ও সুস্থভাবে বসবাস করতে পারবে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অটুট থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রতি বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাড়ি, স্কুল বা আশপাশের যেকোনো উপযুক্ত স্থানে গাছ রোপণ করলে পরিবেশ আরও সবুজ ও নির্মল হবে এবং মানুষ বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে পারবে।

পশুপাখির প্রতি মানবিক আচরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজে অনেকেই প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে। তাই শিশুদের উচিত আশপাশের কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ সব প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। যত্ন নেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত তাদের কোনো ধরনের ক্ষতি না করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংগীত, চিত্রাঙ্কন বা অন্য যেকোনো সৃজনশীল ক্ষেত্রে শিশুদের বিকাশে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ঘটনার পাশাপাশি শিশুদের সাফল্য ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও সংবাদমাধ্যমে যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরদিনের সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সাফল্য এবং শিশুদের অর্জনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকাশ করা হবে।

Scroll to Top