তাহলে সমস্যা কোথায়
কিছু শিশুর কথা বলার সময় নির্দিষ্ট ধ্বনি উচ্চারণ করতে অসুবিধা হয়। কেউ কোনো ধ্বনির বদলে অন্য ধ্বনি বলে, কেউ আবার শব্দের কোনো অংশ বাদ দিয়ে দেয়। যেমন, ‘স্কুল’ বলতে গিয়ে ‘কুল’ বলা কিংবা কোনো শব্দের জটিল ধ্বনিগুচ্ছ উচ্চারণ করতে না পারা। এসব ক্ষেত্রে বয়স ও ভাষার ধরন অনুযায়ী সমস্যাটি স্বাভাবিক বিকাশের অংশ কি না, তা বুঝতে হয়।
কথা বলার সমস্যার ধরনও এক রকম নয়। কোনো শিশু হয়তো শব্দের ধ্বনি ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। আবার কোনো শিশু বয়স অনুযায়ী শব্দ শেখা, বাক্য তৈরি করা কিংবা নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে সমস্যায় পড়ে। উচ্চারণের সমস্যা আর ভাষার বিকাশে দেরি এক বিষয় নয়। তাই সমস্যার ধরন বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এসব ক্ষেত্রে শিশুকে বারবার বকা দেওয়া কিংবা ‘ভুল বলছ’ বলে বিব্রত করা ঠিক নয়। এতে সে কথা বলতে সংকোচ বোধ করতে পারে। বরং ধৈর্য ধরে তার কথা শোনা এবং স্বাভাবিকভাবে সঠিক শব্দটি বলে দেওয়া ভালো।
‘ভুল বলছ’ না বলে কী করা যায়
ধরা যাক, একটি শিশু ‘স্পুন’ বলতে গিয়ে ‘পুন’ বলল। তখন তাকে বকাঝকা না করে বড়রা স্বাভাবিকভাবে বলতে পারেন, ‘হ্যাঁ, স্পুনটা সুন্দর!’ অর্থাৎ শিশুর কথার উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক শব্দটিও ব্যবহার করা যায়।
প্রয়োজনে শব্দটি ধীরে ধীরে বলে শোনানো যায়। মুখ ও ঠোঁট কীভাবে নড়ছে, সেটিও দেখানো যেতে পারে। তবে শিশুকে জোর করে বারবার শব্দটি বলানোর দরকার নেই। তার বয়স ও প্রয়োজন বুঝে অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়াই ভালো।
ড. তানজিয়া সিদ্দিকার মতে, শিশুকে বারবার ভুল বলার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার চেয়ে সঠিক শব্দ শুনতে দেওয়া এবং কথা বলার অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
তাই শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় ধৈর্য ধরতে হবে। সে কী বলতে চাইছে, তা মন দিয়ে শুনতে হবে। কোনো শব্দ ভুল বললেও তার কথার অর্থ বুঝে উত্তর দাও। এতে সে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে উৎসাহ পাবে।
কথা শেখার জন্য শুধু শোনা যথেষ্ট নয়
শিশু শুধু বড়দের কথা শুনেই ভাষা শেখে না, ভাষা ব্যবহার করার সুযোগ থেকেও শেখে। তাকে প্রশ্ন করা, তার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, গল্প বলা কিংবা চারপাশের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা—এসবের মাধ্যমে সে নতুন শব্দ শেখে এবং বাক্য তৈরি করতে অভ্যস্ত হয়।
মোবাইল বা ট্যাবলেটে ভিডিও দেখলে শিশু অনেক শব্দ শুনতে পারে। কিন্তু ভিডিও দেখা আর মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এক নয়। সরাসরি কথোপকথনে শিশু অন্যের মুখভঙ্গি দেখতে পারে, নিজের কথার উত্তর পায় এবং কথার আদান-প্রদানে অংশ নিতে শেখে।
তাই শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় শুধু মোবাইলের দিকে তাকিয়ে না থেকে তার দিকে তাকিয়ে কথা বলা ভালো। সে কী বলছে, তা মন দিয়ে শোনো। গল্পের বই পড়ে শোনাতে পারো, ছবি দেখিয়ে নানা প্রশ্ন করতে পারো কিংবা একসঙ্গে দৈনন্দিন কাজ করতে করতে জিনিসপত্রের নাম শেখাতে পারো। এসব ছোট ছোট অভ্যাস ভাষা শেখার পরিবেশ তৈরি করে।

