ঘরের অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা হল না বাংলাদেশের। হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া ম্যাচটা আবার হাতে নিয়েই এসেছিল বাংলাদেশ। শেষ দিকে শরিফুল ইসলামের হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি, আর মোস্তাফিজের উইকেট শিকারের পর শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩ রান, বাংলাদেশের ১ উইকেট। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিলেন মেরেডিথ, স্ট্রাইকে এলেন জাম্পা। পরের বল ডট। তাসকিনের করা তৃতীয় বলে চার মেরে জাম্পা এনে দিলেন এক উইকেটের জয়। সিরিজ জয়টা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের, অস্ট্রেলিয়া পেল শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান তোলে। জবাবে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেটে দারুণ এক জয় তুলে নেয় সফরকারী দল। ২-১ ব্যাবধানে অজিদের প্রথমবার সিরিজ হারানোর স্বাদ নিয়ে চট্টগ্রামের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করেন শরিফুল। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিস (২১) ও ম্যাট রেনশোকে (০) ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। এক ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে (৮) ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে ফেরার আশা দেখে বাংলাদেশ।
তবে সেই আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন কুপার কনোলি। তবে মাঝে ফিরে যান মারনাস লাবুশেন। এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ২২ বর্ষী এ ব্যাটার।
গ্রিন ২৭ রান করে ফিরলেও ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার হাতেই। পরে অলিভার পিকও খেলেন ২৭ রানের আরেকটি দুর্দান্ত ইনিংস। কিন্তু শেষদিকে দারুণ রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি তৈরি করেন শরিফুল। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। তবে শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাননি তিনি। ফলে ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী নেন একটি করে উইকেট।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেছে তাওহীদ হৃদয়। ৮৮ বলে ৮ চারে এই রান তুলেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা লিটন দাস রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে গিয়েছিলেন। তখন ৪৮ রানে অপরাজিত, শেষদিকে ব্যাটিংয়ে ফিরে ফিফটি তুলে নেন তিনি। অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে।
হৃদয়ের আউটের পর শেখ মেহেদী হাসানকে নিয়ে ফিফটি তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেনও। তিনি ৫১ বলে ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক শান্তর থেকে এসেছে ২৪ রান এবং ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম করেছেন ১৯ রান। রান পাননি ওপেনার সৌম্য সরকার।
অজিদের পার্ট টাইম স্পিনার ম্যাট রেনশ ও জাভিয়ের বার্টলেট নেন ২টি করে উইকেট। বেন ডাওরিশ নেন একটি উইকেট।


