লোকটা পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাড় মোছে। তারপর ফিসফিস করে বলে, ‘বিগ ব্যাংয়ের ন্যানোসেকেন্ড আগের একটা শব্দ…’
—বিগ ব্যাংয়ের আগের আবার শব্দ কী? বিগ ব্যাংয়ের পরই না সবকিছুর শুরু…সময়, স্থান…আমাদের এই মহাবিশ্ব।
—ওখানেই বিগ ব্যাং নিয়ে আমাদের বিগ মিসটেক…
—আচ্ছা বুঝলাম মিসটেক। তা ১৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন বছর আগের শব্দ মানুষের কাছে আসবে কী করে শুনি?
—মানুষের কাছে তো আসেনি।
—তাহলে কার কাছে এসেছে?
—আমাদের কাছে।
—আমাদের কাছে মানে, আপনারা কারা?
লোকটা মুচকি হেসে পেছনে তাকায়। রাফি হতভম্ব হয়ে দেখে, ঠিক এই লোকটার মতো শত শত ফেরিওয়ালা তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একই ভঙ্গিতে।
—বুঝলেন না, শব্দটা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছানো খুবই জরুরি।
তখনই রাফি খেয়াল করল, লোকটার হলুদ ব্যাগ ধরা দুই হাতে কোনো বুড়ো আঙুল নেই, প্রাচীন প্রাইমেটদের মতো চারটা–চারটা আটটা লম্বা আঙুলে কেমন অদ্ভুতভাবে হলুদ ব্যাগটা ধরে আছে। পেছনের লোকগুলোও তা–ই…
—আমার ল্যাঙ্গুয়েজ কনভার্টারে খুব বেশি চার্জ নেই। লোকটা আবার ফিসফিস করে, ‘জিনিসটা নিলে বলুন, বের করি…মাত্র ২০ মিউরো।’
রাফি যন্ত্রের মতো ২০ মিউরোর একটা নোট বের করে দিল লোকটাকে। টের পেল, তার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে যাচ্ছে।


