যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে একাধিক নারী ও কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ইমামের নাম আব্দুল হালিম খান। আদালত তাকে ন্যূনতম ২০ বছর কারাভোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে তাকে হাজির করে লন্ডন নগর পুলিশ। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা একাধিক গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাতজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২১টি যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন হালিম খান। এসব অপরাধের মধ্যে ছিল নয়টি ধর্ষণের অভিযোগ। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে ধর্মীয় নেতা হিসেবে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের আস্থা অর্জন করতেন হালিম খান। পরে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার ভান দেখিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের যৌন নির্যাতনের ফাঁদে ফেলতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেনি রোনান বলেন, হালিম খান নিজেকে সমাজে একজন সম্মানিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তিনি ছিলেন নারীদের জন্য বিপজ্জনক। তিনি দুর্বল অবস্থায় থাকা নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালাতেন।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীরা সাহসিকতার সঙ্গে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। এই রায় অন্য ভুক্তভোগীদেরও আইনের আশ্রয় নিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবারের মতো হালিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সবচেয়ে কম বয়সী এক ভুক্তভোগী তার স্কুল শিক্ষকের কাছে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করলে তদন্ত শুরু হয়। পরে গোয়েন্দারা ৫০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেন এবং একাধিক মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করেন।
তদন্ত চলাকালে হালিম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। তবে দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে সত্য বলে প্রমাণিত বলে রায় দেন।





