রোমাঞ্চকর ফাইনাল: বিরতির পরপরই গোল হজম বাংলাদেশের, ভারতের বিপক্ষে সমতায় ফেরার তীব্র লড়াই! – DesheBideshe

রোমাঞ্চকর ফাইনাল: বিরতির পরপরই গোল হজম বাংলাদেশের, ভারতের বিপক্ষে সমতায় ফেরার তীব্র লড়াই! – DesheBideshe


রোমাঞ্চকর ফাইনাল: বিরতির পরপরই গোল হজম বাংলাদেশের, ভারতের বিপক্ষে সমতায় ফেরার তীব্র লড়াই! – DesheBideshe

নয়াদিল্লি, ৬ জুন – সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলছে এক রুদ্ধশ্বাস ও স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এক বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ভারতের পেয়ারি জাজার বাড়ানো দারুণ এক ক্রসে নিখুঁত হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন সানফিদা। এই মুহূর্তে ম্যাচের স্কোরলাইন: বাংলাদেশ ১ : ২ ভারত।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল ফুটবলের আসল রোমাঞ্চে ঠাসা। প্রথম ৪১ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। তবে ৪২ মিনিটে ডেডলক ভাঙে ভারত। স্বাগতিকদের পেয়ারি জাজার করা একটি শট ঠেকাতে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সুরভী। কিন্তু বল তার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে। গোলরক্ষক মিলি আক্তার পজিশন ছেড়ে কিছুটা সামনে থাকায় বল তার মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায় (১-০)।

তবে লিড পাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি বাঘিনীরা। ঠিক চার মিনিট পর, যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। আনিকা রানিয়া সিদ্দিকার কাছ থেকে বল পেয়ে তহুরা খাতুন দারুণভাবে পাস বাড়ান ঋতুপর্ণা চাকমাকে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বিদ্যুতবেগে বক্সে ঢুকে এক কোণাকুণি শটে ভারতীয় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ঋতুপর্ণা। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে গোল করা ঋতুপর্ণার এই চোখধাঁধানো গোলেই ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যায় পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

খেলার প্রথম ৩০ মিনিটে দুই দলই গোল করার একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ভারতের আস্তাম ওরাওন যেমন সহজ সুযোগ মিস করেছেন, তেমনি বাংলাদেশের তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার সিনিয়রও জালের দেখা পাননি।

তবে প্রথমার্ধে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার দুর্দান্ত কিছু সেভ না করলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতে পারত। ৩৮ মিনিটে ভারতের তারকা ফরোয়ার্ড মনিষা কল্যাণের একটি বুলেট গতির শট রুখে দেন মিলি। এরপর ৪২ মিনিটেও আরও একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন তিনি। বাংলাদেশ শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে।

এবারের সাফে এই প্রথম কোনো দল ভারতের জালে বল পাঠাতে সক্ষম হলো। এর আগে গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ এবং সেমিফাইনালে ভুটানের বিপক্ষে কোনো গোলই হজম করতে হয়নি শক্তিশালী ভারতকে। ঋতুপর্ণার গোলটি তাই মানসিকভাবে ঢাকাকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছিল।

একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের শুরুর একাদশে দুটি বড় পরিবর্তন আনা হয়। উমেলাহ মারমা ও সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় কোচ মাঠে নামান অভিজ্ঞ তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে।

বাংলাদেশের ফাইনাল একাদশ: মিলি আক্তার (গোলরক্ষক), আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মৌমিতা খাতুন, সুরভী আক্তার আফরিন, শামসুন্নাহার সিনিয়র, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকা, তহুরা খাতুন এবং শামসুন্নাহার জুনিয়র।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও ট্রফি নিজেদের করে নিতে মরিয়া বাংলাদেশ। ম্যাচ এখন যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছু ঘটে যাওয়া সম্ভব। পুরো দেশের চোখ এখন টিভির পর্দায়!

এনএন/ ৬ জুন ২০২৬



Scroll to Top