কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর সদরে অবস্থিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাতের আঁধারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটায়।
হামলায় কার্যালয়ের টিনশেডের দুটি কক্ষ পুরোপুরি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুল অফিস কক্ষের তালা ভেঙে আলমারি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সূত্রে জানা গেছে, পৌর সদরের ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়টি অবস্থিত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত কার্যালয়টিতে হামলা চালায়। তারা টিনশেডের দুটি কক্ষ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসার মূল অফিস কক্ষটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল ও আলমারি ভাঙচুর করে। দুর্বৃত্তরা কার্যালয় থেকে টেলিভিশন ও ফ্যান খুলে নেওয়ার পাশাপাশি আলমারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূপম দাস ও পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন মজনু বলেন, শুক্রবার ভোরে একজনের মাধ্যমে কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পাই। এসে দেখি সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই জায়গাটি সরকারি এবং ১৯৭২ সাল থেকে আমরা এটি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। জায়গাটি নিয়ে বর্তমানে জেলা পরিষদের সঙ্গে মামলা চলছে। এর মধ্যেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটল। আমরা সব মুক্তিযোদ্ধারা বসে পরবর্তী কর্মসূচি ও আইনি পদক্ষেপ নেব।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে এবং একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত যারাই হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবের সাথে বহুতল ভবন নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে অনেক আগেই। আমি এসেও উনাদের সাথে কথা বলেছি বহুতল ভবনে উঠার জন্য। কিন্তু তারা বলেছেন এটা উনাদের পুরোনো স্মৃতি, এই জায়গাটি তারা ছাড়তে চাইছেন না। কে কে কারা এই কার্যালয় ভাংচুর করেছে তা বেড় করতে তদন্ত করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়ে এমন হামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



