রাতে কোরআনের যে দুই আয়াত পাঠ করা সুন্নত

রাতে কোরআনের যে দুই আয়াত পাঠ করা সুন্নত

প্রতিদিন রাতে পবিত্র কোরআন থেকে সামান্য তিলাওয়াত করা সুন্নত। বিশেষত ঘুমানোর আগে সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে এসেছে,

রাতে কোরআনের যে দুই আয়াত পাঠ করা সুন্নত

আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সুরা বাকারার শেষে এমন দুটি আয়াত আছে, যে ব্যক্তি রাতের বেলা তা তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এ আয়াত দুটোই যথেষ্ট হবে। অর্থাৎ রাতে কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করার যে হক রয়েছে, কমপক্ষে সুরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করলে তার জন্য তা যথেষ্ট।

’ (সহিহ্ বুখারি, হাদিস: ৪০০৮)
আর আলী (রা.) বলেন, ‘আমার মতে, যার সামান্য বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া ঘুমাবে না।’ আয়াত দুটি হলো:

রসূল তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে তার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস করেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈশ্বর ও তাঁর ফেরেশতাগণ এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। আমরা তাঁর রসূলদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না। তারা বললঃ আমরা শুনলাম এবং মানলাম। তোমার ক্ষমাই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন। (285) ঈশ্বর কোন ব্যক্তিকে তার ভারসাম্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করেছে তা তারই এবং যা অর্জিত হয়েছে তারই। হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুল করি তাহলে আমাদেরকে জবাবদিহি করবেন না। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের উপর এমন বোঝা অর্পণ করবেন না যেভাবে আপনি আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছিলেন। হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এমন বোঝা দেবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। এবং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি আমাদের প্রভু, সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন (286)

উচ্চারণ:

আমানাররাসুলু বিমা উনজিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মুমিনুন, কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহী লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহী ওয়া কা-লু সামিনা ওয়াআতানা গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসির। লা-ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা-উছ-আহা লাহা-মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা-মাকতাসাবাত রাব্বানা-লা-তুআ-খিজনা ইন নাসিনা-আও আখতানা-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহু আলাল্লাজিনা মিন কাবলিনা, রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-ত্ব-কাতা লানা-বিহী ওয়াফু আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থ:

রাসুল (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সা.) ঈমান এনেছে, যা তাঁর উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে নাজিল করা হয়েছে এবং (তাঁর সাথে) মুমিনরাও।

তাঁরা সকলে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না (যে, কারও প্রতি ঈমান আনব এবং কারও প্রতি আনব না)। এবং তাঁরা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসুলের বিধানসমূহ মনোযোগ সহকারে) শুনেছি এবং তা পালন করছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আর আপনারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন।
আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। তার কল্যাণ হবে সে কাজেই যা সে করে এবং তার ক্ষতিও হবে সে কাজেই, যা সে করে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও কোরো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের কোনো দায়িত্বভার অর্পণ করবেন না, যেমন অর্পণ করেছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভার চাপিয়ে দেবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।

আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আপনি আমাদের সাহায্য করুন। (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৫-২৮৬)

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

অন্য হাদিসে এসেছে, হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‌‘আমাকে সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো আরশের নিচের ভাণ্ডার থেকে দেওয়া হয়েছে যা আমার আগে আর কোনো নবীকে দেওয়া হয়নি। এবং আমার পর আর কাউকে দেওয়া হবে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ২৩২৫১)

Scroll to Top