রাত পোহালেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন | চ্যানেল আই অনলাইন

রাত পোহালেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন | চ্যানেল আই অনলাইন

রাত পেরোলেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন দেশে এই প্রথম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যেই ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন সাদা ব্যালট সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য।

শেরপুর–৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত থাকায় আগামীকাল ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া নিবন্ধিত প্রায় সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি অতীতের তুলনায় ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ‘অতি প্রতীক্ষিত’ নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৬০টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল।

২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া পরিচয়ে ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৯৫৮টি। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সরাসরি ভোটগ্রহণ হবে এবং ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে।

প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভোটগ্রহণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও কারাগারে থাকা বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

নির্বাচনে মোট ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন।

ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় নিরাপত্তা মোতায়েন আগে হয়নি।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রে গণনা শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর দুটি ব্যালট একযোগে গণনা করা হবে এবং ফলাফল কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হবে।

ইসি আশা করছে, অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল ভোটের দিন মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে। পরদিন সকালে সব ফল একত্র করে ফরম–১৮-এ লিপিবদ্ধ করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সই করবেন। এরপর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ভোটারদের অংশগ্রহণে আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইসির আশা, এবারের ভোটে উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে।

Scroll to Top